kalerkantho


বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগ

খবর দিলেই ১০০ টাকার ফ্লেক্সিলোড

ফখরে আলম ও বাবুল আক্তার মণিরামপুর থেকে   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সাদিয়া, নাজনীন, আরেফা—এই শিশুরা বিয়ে বলতে পুতুল খেলাকেই বোঝে। কিন্তু এরাই বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। অল্পদিনেই মা হয়ে এরা শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছে। সামাজিক ব্যাধি বাল্যবিয়ের কারণে লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও মাধ্যমিকের আগেই ৭০ শতাংশ ছাত্রী বাল্যবিয়ের কারণে ঝরে পড়ছে।

বাল্যবিয়েকেই যশোরের মণিরামপুর উপজেলার এক নম্বর সমস্যা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত চার বছরে স্থানীয় প্রশাসন ৩৯৭টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করেছে। এমন কঠিন বাস্তবতায় গত আগস্ট মাসে উপজেলা প্রশাসন বাল্যবিয়ের খবর দিলে এক শ টাকা ফ্লেক্সিলোড পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু তার পরও নানা কৌশলে বাল্যবিয়ে হচ্ছে।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাল্যবিয়ে নিয়ে কোনো ছাড় বা আপস নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।’

বাল্যবিয়ের সংবাদ দিলে সংবাদদাতাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তাতে এখন পর্যন্ত সাড়া পাননি বলে তিনি জানান।

মণিরামপুর উপজেলা দেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি উপজেলা। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ  উপজেলায় ২৬১টি গ্রাম রয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বড় অংশই অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত ও অসচেতন। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যেই বাল্যবিয়ের হার বেশি। এ ছাড়া অন্যান্য শ্রেণি-পেশার অভিভাবকরাও কোনো কোনো সময় ভালো পাত্র পেলে কন্যাশিশুকে বিয়ের পিঁড়িতে বাসিয়ে দিচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পাড়ালা, জয়পুর, হাজরাইল, ঢাকুরিয়া, চিনাটোলা, দূর্বাডাঙ্গা, মহাদেবপুর, ভোজগাতী, শ্যামকুড়, নেংগুড়াহাট, চাঁদপুর, নেহালপুর, হোগলাডাঙ্গা গ্রামের ঋষিপল্লী, গোপালপুর ও তাহেরপুর গ্রামের কায়পুত্রপাড়া, জামজামি গ্রামের বিন ও ধামারী পল্লীর পরিবারের মধ্যে বাল্যবিয়ে বেশি হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমী আকতার কালের কণ্ঠকে বলেন, গত চার বছরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ৩৯৭টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে ১৫টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, মণিরামপুর পৌরসভা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এক শিক্ষাবর্ষে ৬৫ জন ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৩ জন ছাত্রী মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়। ঝরে পড়া অধিকাংশ ছাত্রীই বাল্যবিয়ের শিকার।



মন্তব্য