kalerkantho


ত্রিশালের রাস্তায় কাত হয়ে চলে যানবাহন

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বেশির ভাগ সড়কই বেহাল। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথায়ও আবার বড় বড় গর্ত হয়েছে। এসব গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ির চাকা। বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুপানি জমে। সড়কপথের কোথাও এক পাশ ঢালু হয়ে যাওয়ায় গাড়ি কাত হয়ে চলে; আবার কোথাও উঁচু-নিচু হওয়ায় তীব্র ঝাঁকুনিতে চরম ঝুঁকি ও ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। ত্রিশালে চলাচলের অযোগ্য সড়কের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালে অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য ৯০৭ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২১৭ কিলোমিটার পাকা। আর পাকা রাস্তার মধ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ত্রিশাল থেকে ফুলবাড়িয়া, বড়মা থেকে কানিহারি, পোড়াবাড়ী থেকে মুক্ষপুর, ত্রিশাল থেকে পোড়াবাড়ী ও ত্রিশাল থেকে বালিপাড়ার সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। এসব সড়কে চলতে গিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়ছে। খানাখন্দের কারণে বাইসাইকেল উল্টে গিয়ে হাত-পা ভেঙেছে অনেকের।

ত্রিশাল সদর-বালিপাড়া সড়কটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এ সড়কে একসময় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করত। সংস্কারের অভাবে দুই বছর ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিএনজি ও অটোরিকশায় করে যাতায়াত করছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ছোট যানবাহনগুলোকে উল্টে থাকতে দেখা যায় হরহামেশা। এ রাস্তা দিয়ে চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ চলাফেরা করে।

বৈলর মোড় থেকে ফুলবাড়িয়া সড়কটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। বৈলর মোড় থেকে ফুলবাড়িয়ায় আসতে ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এ ছয় কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই ভাঙাচোরা।

পোড়াবাড়ী থেকে মুক্ষপুর সড়কটিও বেহাল। এই সড়কপথে মাছবাহী ট্রাক যাতায়াত করায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলছে। সড়কটির এমন দুর্দশা দেখেও সংস্কারে কর্তৃপক্ষ উদাসীন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, এ এলাকার মত্স্য খামারগুলো অপরিকল্পিতভাবে করা। পুকুরের পাড়কেও সড়ক হিসেবে ব্যবহার করায় তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথায়ও আবার সড়কের কিছু অংশ পুকুরে ভেঙে পড়ায় সড়কপথ সরু হয়ে গেছে।

পোড়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র পারভেজ, রাজীব ও আমিনুল জানায়, অনেক দিন ধরে রাস্তার অবস্থা খারাপ। সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাইসাইকেলে আসা-যাওয়া করার সময় গর্তে পড়ে অনেকেই আহত হচ্ছে।

ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী শাহেদ হোসেন বলেন, ‘সড়কগুলো দিয়ে ছয় টনের বেশি ভারী যান চলা নিষেধ। কিন্তু চালকরা তা মানছে না। বিশেষ করে ট্রাকগুলোর বেশির ভাগই ২৫-৩০ টন পর্যন্ত মালপত্র বহন করে। ফলে সড়ক দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, ত্রিশাল-বালিপাড়া-নান্দাইল সড়কটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে। তা ছাড়া অন্য সড়কগুলোও ধাপে ধাপে সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি ভারী যান চলাচলের ব্যাপারে নজরদারি আরো বাড়ানো হবে।

 



মন্তব্য