kalerkantho


পঞ্চগড়ে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

পালিয়েছে স্বামী, আটক ৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শেফালি আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ওই গৃহবধূর পরিবারের দাবি, তাঁকে মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ওই গৃহবধূর শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। গতকাল সোমবার সকালে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই গৃহবধূ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে মারা যান। এর পরই সটকে পড়েন ওই গৃহবধূর স্বামী।

স্থানীয় লোকজন জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তেঁতুলিয়ার দেবনগর ইউনিয়নের ব্রহ্মতল এলাকার সাইবুল ইসলামের মেয়ে শেফালি আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে লিটন ইসলামের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই টাকার জন্য শেফালিকে মারধর করতেন লিটন। গত রবিবার দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে আবারও মারধর করেন লিটন। একপর্যায়ে শেফালি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর মুখে কীটনাশক ঢেলে দেন স্বামী ও শাশুড়ি। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। গতকাল সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের এসব জানিয়েছেন শেফালি। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। এরই মধ্যে পুলিশ ওই গৃহবধূূর শ্বশুর খাদেমুল ইসলাম, শাশুড়ি সালমা ওরফে ডালিমন ও ননদ খায়রুন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে গৃহবধূর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্বামী লিটন পলাতক রয়েছেন।

পঞ্চগড় সদর থানার এসআই আব্দুল জলিল জানান, প্রাথমিকভাবে ওই গৃহবধূর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল হক জানান, এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।



মন্তব্য