kalerkantho


গণকটুলী সুইপার কলোনি

টিকতে পারছে না মাদক কারবারিরা

ওমর ফারুক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হাজারীবাগের গণকটুলী সুইপার কলোনির বাসিন্দা লিটন গত ২৭ মে গ্রেপ্তার হয়েছিল পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের সময়। মাস দেড়েক পরই জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসে কারাগার থেকে। কলোনিতে ফিরে আবার শুরু করে মাদক কারবার। ধরাও পড়ে যথারীতি। গত রবিবার লিটনসহ ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

গণকটুলীর এই কলোনিতে একসময় প্রতিদিন বিকেল থেকে বসত মাদকের হাট। চোলাই মদ থেকে শুরু করে গাঁজা, হেরোইনসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্যই পাওয়া যেত। গত মে মাসে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হলে গণকটুলীতেও চলে অভিযান। তাতে ৫৫ জন ধরা পড়েছিল, অন্য মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। আটক ২৪ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছিল। অন্য ৩১ জনকে ডিএমপি অধ্যাদেশের বলে চালান দেওয়া হয়েছিল আদালতে। অভিযানের আগেই যারা পালিয়ে গিয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম মাদক কারখানার মালিক সুমন চন্দ্র দাস। বাইরে স্কুলের সাইনবোর্ড টানানো ঘরের ভেতর কয়েকটি বড় ড্রামে চোলাই মদ বানাত সে।

গতকাল মঙ্গলবার গণকটুলীতে গেলে ওই কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, মে মাসের অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছিল। সম্প্রতি কিছু মাদকসেবী বাইরে থেকে মাদক এনে নিজেরা সেবন করার পাশাপাশি বেচতেও শুরু করে। এতে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয় বাসিন্দাদের মনে। কলোনির একাধিক বাসিন্দা বলে, চোলাই মদ কারখানার মালিক সুমন সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মাদক কারবার শুরু করার পাঁয়তারা করেছে। কিন্তু কলোনির বাসিন্দা ও পুলিশের কারণে শেষ পর্যন্ত তা চালু করতে পারেনি।

কলোনির এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সুমন অভিযানের পর প্রায়ই মোটরসাইকেলে সন্ধ্যার দিকে কলোনিতে এসে পরিস্থিতি জেনে দ্রুত চলে যেত। কিছুদিন আগে সে ভেবেছিল পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে, মাদক কারবার শুরু করা যায়। কিছু মালপত্র নিয়ে কলোনিতে আসে। সঙ্গেই সঙ্গেই খবর চলে যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ কলোনিতে ঢোকার আগমুহূর্তে খবর পেয়ে যায় সুমনও। দ্রুত কলোনি থেকে পালিয়ে যায় সে। এরপর আর তাকে এলাকায় আসতে দেখা যাচ্ছে না।’

গতকাল দুপুরে গিয়ে সুমনের ঘর তালাবদ্ধ দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজন জানায়, সুমন ফিরতে না পারলেও কয়েক দিন ধরে কলোনির কিছু মাদকসেবী বাইরে থেকে মাদকদ্রব্য এনে নিজেরা সেবন করছিল, আবার অন্যদের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে। এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ গত রবিবার কলোনিতে অভিযান চালায়।

হাজারীবাগ থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া জানান, গত রবিবার কলোনি থেকে ২৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের এ অভিযানকে সাধুবাদ জানাচ্ছে কলোনির বাসিন্দারা। সুমন নামের এক বাসিন্দা বলেন, গত ২৭ মে পুলিশের অভিযানের পর কলোনিতে মাদক না পেয়ে অনেক মাদকসেবী সন্ধ্যার দিকে কাঁপতে শুরু করত। কাঁপতে থাকা মাদকসেবীদের অনেকে এখন সুস্থ। তারা মাদক সেবন ছেড়ে দিয়েছে। তবে কিছু মাদকসেবী সুস্থ হওয়ার পথে না গিয়ে বাইরে থেকে মাদক এনে সেবন ও বিক্রি শুরু করে। রবিবার তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কলোনির বাসিন্দা জিন্নাত আলী বলেন, পুলিশের অভিযানের পর মাদক কারবার শতকরা ৯৫ ভাগ বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকার মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে আছে। পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখলে এখানে মাদক কারবারিরা টিকতে পারবে না।

হাজারীবাগ থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো মাদক কারবারি ফিরছে কি না সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি আমরা। ফিরলেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, তাঁরা মাদকের স্পটগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।



মন্তব্য