kalerkantho


শরীয়তপুরের জাজিরা

চার দিন পর বাড়ির বাঁশঝাড়ে মিলল শিক্ষিকার লাশ!

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর শরীয়তপুরের জাজিরার বড়মুলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুবিনা আক্তার রুমার (৩৩) মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নিজ বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়ের মধ্য থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জাজিরা থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আত্মীয়-স্বজন ও পুলিশ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু জানাতে পারেনি।

জাজিরা থানার ওসি মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁশঝাড়ের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। লাশের গায়ে পোকা ধরায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

রুবিনা আক্তার জাজিরা উপজেলার উপজেলার মুলনা ইউনিয়নের মধ্য রায়েরকান্দি গ্রামের মৃত হাসান মুন্সীর মেয়ে। জাজিরা থানা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক খান আব্দুর রহিম সূত্রে জানা গেছে, ২০ নম্বর বড়মুলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে তিনি ২০১০ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন। গত শুক্রবার নিজ বাড়িতে আসরের নামাজ শেষে ব্যক্তিগত কাজে উপজেলা সদরে যান। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় তাঁর মা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে রুবিনার মোবাইল ফোনসেটটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে গত রবিবার রুবিনার ভাই শামসুল হক মুন্সি জাজিরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গতকাল বিকেলে বাড়ির পেছনের বাঁশের ঝাড় থেকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে লোকজন লাশটি দেখতে পায়।

ভগ্নিপতি কামাল মাতবর বলেন, ‘রুবিনা তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতে থাকত। তার একমাত্র ভাই শামসুল হক মুন্সি ঢাকায় থাকে। অন্য চার বোন তাদের শ্বশুরবাড়িতে থাকে। গত শুক্রবার আমার শাশুড়ির কাছে জাজিরা উপজেলা শহরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সে। এরপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমরা মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছুই জানতে পারিনি।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক খান আব্দুর রহিম বলেন, ‘রুবিনা ধার্মিক ও খুবই ভালো চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’



মন্তব্য