kalerkantho


‘অং মিনকে ধরিয়ে দিন’

নিউ ইয়র্কজুড়ে রোহিঙ্গা গণহত্যাবিরোধী প্রচারণা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নিউ ইয়র্কজুড়ে রোহিঙ্গা গণহত্যাবিরোধী প্রচারণা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে বিশ্বনেতাদের চলাচলের পথে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচার দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে সমবেত বিশ্বনেতাদের চলাচলের পথে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিচারের দাবিতে প্রচারণা চালাচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি গতকাল মঙ্গলবার জানায়, মিয়ানমারের জবাবদিহির দাবিতে প্রচারণার অংশ হিসেবে গত সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কের অন্তত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশে পোস্টার লাগানো হয়েছে।
পোস্টারগুলোর একটিতে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল অং মিন হ্লাইংয়ের বড় ছবির নিচে লেখা রয়েছে, ‘গণহত্যার দায়ে ধরিয়ে দিন’। অন্য একটি পোস্টারে ২৫ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা নারীর বক্তব্য স্থান পেয়েছে। ওই নারী বলেছেন, ‘আমি স্কুলের সামনে অনেক মৃতদেহ দেখেছি। কেউ গুলিবিদ্ধ, কারো কারো শরীর কেটে ফেলা হয়েছে। ভেবেছিলাম, আমি অসুস্থ হয়ে যাব।’ পোস্টারে অ্যামনেস্টি আরো বলেছে, গত বছর মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও পুরুষকে হত্যা করেছে।
অ্যামনেস্টির ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ফুটপাতে ওই পোস্টারগুলো লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া গাড়িতে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছে সংস্থাটি। সেই ডিসপ্লে বোর্ডগুলোর একটি ছবিতে দেখা যায়, মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের মুখের ওপর এক রোহিঙ্গার বক্তব্য লেখা রয়েছে—‘আমি শুনলাম, শিশুটি কাঁদছে। এরপর তারা (মিয়ানমারের সেনারা) গুলি করল। এরপর আর কিছুই না।’
ডিসপ্লে বোর্ডের আরেকটি ছবিতে মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেলের ছবির পাশে লেখা রয়েছে, ‘এই অপরাধ নিয়ে তাঁকে পালাতে দেবেন না। জেনারেলের বিচার করুন।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব কুমি নাইডু এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল অং মিন হ্লাইং মানবতাবিরোধী অপরাধ দেখভালের জন্য দায়ী। বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মতো ভয়ংকর নিষ্ঠুরতায় মিয়ানমার বাহিনীর নেতৃত্বের শীর্ষে ছিলেন তিনি।’
কুমি নাইড বলেন, ‘তাঁর (অং মিন হ্লাইং) সেনাবাহিনীই উত্তর রাখাইনে সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং করে যাচ্ছে। আমরা চাই, বিশ্বনেতারা এ সপ্তাহে যখন মিয়ানমারের জবাবদিহির পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন, তখন তাঁদের মনে এই ব্যক্তির (অং মিন হ্লাইং) ছবিটি থাকুক।’

 

 



মন্তব্য