kalerkantho


রংপুর জেলা পরিষদ

নারী সদস্যকে লাঞ্ছনার অভিযোগে চেয়ারম্যান কার্যালয়ে তালা

রংপুর অফিস   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নারী সদস্যকে লাঞ্ছনার অভিযোগে চেয়ারম্যান কার্যালয়ে তালা

প্রকল্প নিয়ে হট্টগোলের জের ধরে গতকাল চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন রংপুর জেলা পরিষদের নারী সদস্য পারভীন আক্তার ও তাঁর সমর্থকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারী সদস্য পারভীন আক্তারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমকে অবরুদ্ধ এবং তাঁর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের এ ঘটনায় ছাফিয়া খানম নিজ কার্যালয়ে অফিসকক্ষের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে অফিসকক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়।

সোমবার বিকেলে রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানমের হাতে নারী সদস্য পারভীন আক্তার লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর চেয়ারম্যান অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেও ওই কক্ষেই অবস্থান করেন পারভীন আক্তার। খবর পেয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি, পারভীন আক্তারের স্বামী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান সোহেলসহ গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। সে সময় পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন এবং গালাগাল করেছেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই পারভীন আক্তার কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গতকাল সকাল থেকেই জেলা পরিষদ কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুপুরে পারভীন আক্তার জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্য, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় পারভীন আক্তার চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। অফিসে ঢুকতে না পেরে দরজার সামনে অবস্থান নেন ছাফিয়া খানম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও হিমশিম খায়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফিসহ দলীয় নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কোতোয়ালি থানার এসআই ফেরদৌস আহম্মেদ গতকাল সন্ধ্যায় জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে সমস্যার সমাধান হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘পারভীন আক্তার যে অভিযোগ করেছেন, তা সঠিক নয়। সেখানে তেমন কিছুই হয়নি। বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। আমি যথানিয়মে সোমবার সাড়ে ৫টার দিকে অফিস থেকে বের হয়ে যাই। আমি আসার পর পারভীন যে অভিযোগ করেছেন তা হয়তো পূর্বপরিকল্পিত। কাপড় ছেঁড়ার মতো ঘটনা ঘটেনি।’



মন্তব্য