kalerkantho


ওএমএস ট্রাকের অবস্থান জানাবে মোবাইল অ্যাপ

খোলাবাজারে চাল ও আটা বিক্রি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে বারবার

আশরাফুল হক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খোলাবাজারে চাল ও আটা বিক্রির (ওএমএস) কাজে নিয়োজিত ট্রাকের অবস্থান জানাবে মোবাইল অ্যাপ। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাকে অবিক্রীত চাল ও আটার পরিমাণও জানা যাবে। ওএমএস কার্যক্রমের বিভিন্ন অনিয়ম দূর করার জন্য আগামী মৌসুম থেকেই এই অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। 

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরিফুর রহমান অপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অ্যাপ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে আরো বেশি স্বচ্ছতা আসবে। অ্যাপ ব্যবহারের জন্য শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এরই মধ্যে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশিকার খসড়া করা হয়েছে।’

বাজারদর স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকার খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি কার্যক্রমের আওতায় বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কম দামে বাজারে ছাড়ে। গত ৯ বছরে প্রায় ২২ লাখ টন চাল এবং সাড়ে ১২ লাখ টন আটা ওএমএস কর্মসূচির আওতায় বিক্রি করা হয়েছে। এতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বারবার। কয়েক দিন পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে বাইরে পাচার হওয়া ওএমএসের চাল ও আটা আটক করে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানী থেকে ২১৫ টন চাল ও আটা জব্দ করে র‌্যাব। এ ঘটনায় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। র‌্যাব গত বছরের ২৭ আগস্ট ওজনে কম দেওয়ার কারণে তেজগাঁও সিএসডির একটি গুদাম সিলগালা করে দিয়েছিল। সেই ঘটনা তদন্ত করার জন্যও খাদ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে। পরে তাদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করে। বিভাগীয় মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওএমএসের চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু এসব অভিযোগ দূর করার জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ কোনো সরকারই নেয়নি। বর্তমানে এক দিন পর পর দুই টন করে আটা ও চাল তুলতে পারেন ওএমএস ডিলাররা। এসব খাদ্যশস্য তাঁরা ট্রাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। ওএমএসের খাদ্যশস্য অবিক্রীত থাকলে কী করা হবে, তার কোনো উত্তর নেই খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে। এসব খাদ্যশস্য গুদামজাত করতে পারেন না ডিলাররা। একইভাবে এসব খাদ্যশস্য তাঁরা বিক্রিও করতে পারেন না। কিন্তু অবিক্রীত খাদ্যশস্য পেলেই আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য খাদ্য অধিদপ্তর ওএমএসের অবিক্রীত চাল ও আটা মজুদ করার জন্য গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তবে গুদাম নির্মাণের আগেই ওএমএসের চাল বা আটা বিক্রির জন্য মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।

আন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের যেকোনো স্মার্ট মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে ডিলাররা খুব সহজে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন। দৈনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দিন শেষে বিক্রির হালনাগাদ তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানতে পারবে।

পাবলিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমের আওতায় খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি করা হয়। খাদ্যশস্যের বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ করতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার এ কর্মসূচি পরিচালনা করে। শনিবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই টন চাল ও এক টন আটা একজন ওএমএস ডিলার বিক্রি করতে পারেন। ডিলাররা খাদ্য অধিদপ্তরের নামে ২৫ হাজার টাকার ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেন। ওএমএস কার্যক্রম শেষে কোনো ত্রুটি না থাকলে এ জামানত ফেরত দেওয়া হয়। ডিলার মনোনয়নের জন্য বিভাগে বিভাগীয় কমিটি, জেলায় জেলা কমিটি রয়েছে। বিভাগীয় কমিটির প্রধান বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা কমিটির প্রধান জেলা প্রশাসক। উপজেলায়ও একই ধরনের কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হন খাদ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক ঢাকা মহানগরীতে, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় সদরে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে জেলা সদরে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে উপজেলায় ও পৌরসভায় ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ট্রাক ডিলার ও দোকান ডিলারের মাধ্যমে চাল বিক্রি করা হয়। ডিলার কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় তদারক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব তদারক কর্মকর্তার সঙ্গে মিলেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করেন ওএমএস ডিলাররা।



মন্তব্য