kalerkantho


অষ্টগ্রামে রাষ্ট্রপতি

আগামী নির্বাচনে ভালো মানুষকে মনোনয়ন দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ করে বলেছেন, ভালো মানুষ দেখে দেখে মনোনয়ন দিন। এমপি হয়েই লুটপাটে লেগে যায়, এমন ভাব দেখায় যে তারা যা বলবে তাই হবে; আমার অনুরোধ, এমন কাউকে মনোনয়ন দেবেন না।

দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল সোমবার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলাবাসীর দেওয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মো. আবদুল হামিদ এসব কথা বলেন। সমাবেশে আগতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা টিআর-কাবিখার টাকা খেয়ে ফেলে, চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়, তাদেরকে ভোট দেবেন না। যারা মানুষকে ভালোবাসে এবং চরিত্রবান তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। কথা আর কাজে মিল নেই এমন ব্যক্তিদের ভোট দেবেন না। কোথায় ভোট দিলে উন্নতি ও মঙ্গল হবে তা চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

গণসংবর্ধনা সভায় বক্তাদের অনেকেই নির্বাচনকেন্দ্রিক বক্তব্য দিয়ে হাওরের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। সব শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক মিটিং হয়ে গেছে। আমি নির্বাচনী মিটিং করতে আসিনি। আমার পক্ষে নির্বাচনী বক্তৃতা দেওয়া ঠিক না। রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি তা পারি না। এ ধরনের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী দিতে পারেন।’

রাষ্ট্রপতি স্মৃতিচারণার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটে হাওরবাসীর যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনা করে নতুন নতুন রাস্তা ও সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি জানান, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মধ্যে উঁচু তথা ‘আবুরা’ রাস্তা নির্মাণের রূপকার তিনি নিজেই। পরবর্তী সময়ে হাওরজুড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পানি পানির মতো যাবে আর আমরা ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করব।

গণসংবর্ধনার আগে দুপুর ২টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টার অষ্টগ্রাম হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। এরপর তিনি হেঁটে ডাকবাংলোয় গেলে সেখানে তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি অটোরিকশায় চড়ে সংবর্ধনাস্থল অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যান। সভার শুরুতেই রাষ্ট্রপতিকে মানপত্র দেওয়া হয়। পরে আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

 

 



মন্তব্য