kalerkantho


এনডিটিভিকে তথ্যমন্ত্রী

অমিত শাহর মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অমিত শাহর মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত

কথিত অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশিদের ‘উইপোকা’ অভিহিত করে ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর বিতর্কিত মন্তব্যকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভিকে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার এনডিটির অনলাইনে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেস দলের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়াও স্থান পেয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র ‘উইপোকা’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে দ্বিধান্বিত হলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগ তুলে বলেছেন, ভারতের কংগ্রেসসহ কিছু দল অবৈধ অভিবাসীদের নিজেদের ভোটব্যাংক বানাচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেছেন, মানুষকে ‘উইপোকা’ বলা সভ্য সমাজের ভাষা নয়।

উল্লেখ্য, অমিত শাহ গত শনিবার রাজস্থানের একটি অনুষ্ঠানে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ উইপোকার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আগামী বছর বিজেপি আবার সরকার গঠন করলে এক এক করে তাদের সবার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। গত রবিবার তিনি দিল্লিতেও এমন মন্তব্য করেন বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভারতে আগামী বছরের প্রথমার্ধে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনপূর্ব রাজনীতির মতো এবারও কয়েকটি দলের কাছে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যু বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে, ভারত অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগের বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে কখনো তোলেনি।

বিজেপি সভাপতির বিষয়ে এনডিটিভিকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বাংলাদেশিদের উইপোকা হিসেবে অভিহিত করে অমিত শাহ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্য যথার্থ নয়।’ তিনি বলেন, ‘এখানে (অমিত শাহর) তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। আমি আশা করব, তিনি জানবেন যে কোনো বাংলাদেশি ভারতে থাকছেন না (অবৈধভাবে)।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন নয়। আমরা মনে করি, অমিত শাহর মন্তব্য ভারত সরকারের ভাষ্য নয়। আমরা তাঁর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছি না।’ তিনি আশা করেন, অমিত শাহর দল বিজেপি তাঁকে (অমিত শাহকে) প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাবে। অমিত শাহ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বলার মতো উপযুক্ত ব্যক্তি নন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক চমৎকার। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। এটি এমন বিষয় নয় যে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলবে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের অন্য কোনো রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন নয়। সেগুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি চমৎকারভাবে সামলাচ্ছেন। ইনু বলেন, ‘ভারতে বাংলা ভাষাভাষী লোকজন বাংলাদেশি নয়। বাংলাদেশ অন্য একটি দেশ। আমাদের ভিন্ন পরিচয় আছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষাভাষী লোকদের প্রসঙ্গ কখনো বাংলাদেশের কাছে তোলেনি। তাই এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই তা সামাল দেওয়া উচিত।’

এদিকে ভারতে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে বিজেপি মুখপাত্র বিবেক রেড্ডি এনডিটিভিকে বলেন, নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি রেজিস্টার) পুরোপুরি কার্যকর হবে এবং অবৈধভাবে ভারতে আসা ব্যক্তিদের বাংলাদেশে নিরাপদে ফেরত পাঠাতে হবে।

বিবেক রেড্ডি বলেন, “আমি জানি না অমিত শাহ ‘উইপোকা’ শব্দটি সত্যিই ব্যবহার করেছেন কি না। এটি নিয়েও বিতর্ক করা যায়। তবে মূল বিষয় হলো, যখন কোটি কোটি লোক ভারতে অনুপ্রবেশ করছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কংগ্রেসসহ কিছু রাজনৈতিক দল তাদের ভোটব্যাংক বানাচ্ছে। তারা তাদের আধার কার্ড (নাগরিক সুবিধা পাওয়ার পরিচয়পত্র) দিচ্ছে।’

অন্যদিকে কংগ্রেস মুখপাত্র ব্রিজেশ কালাপ্পা বলেন, বিজেপিকে বুঝতে হবে যে তারা সাড়ে চার বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। আর ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় সভাপতি কথা বলছেন। যখন তিনি কথা বলেন, তখন কেবল দিল্লিকেই বলেন না, পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই বলেন।

কথিত অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশিদের বিজেপি সভাপতির ‘উইপোকা’ বলে মন্তব্য করা প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, এটি কোনো সভ্য সমাজের ভাষা নয়। কারণ অমিত শাহ মনুষ্যত্বকে অস্বীকার করছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি হিসেবে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি দেখভাল করাও অমিত শাহর দায়িত্ব।

বাংলাদেশি কূটনৈতিক সূত্রগুলো দুই দেশের মধ্যে উষ্ণতম সম্পর্কের মধ্যে বিজেপি সভাপতির ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর’ ওই বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বিজেপির শীর্ষ নেতার এমন বক্তব্য ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে চাঙ্গা করবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট কাঠমাণ্ডুতে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে আসামে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে চিন্তিত না হওয়ার আশ্বাস দেওয়ার তথ্য ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

 

 

 

 



মন্তব্য