kalerkantho


গৌরীপুর নান্দাইলে বাল্যবিয়ের ‘ধুম’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও নান্দাইলে যেন বাল্যবিয়ের ‘ধুম’ পড়েছে। শুক্রবার বন্ধের দিন বাল্যবিয়ের আয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি। প্রশাসনকে জানালেও বিয়ে বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। গত তিন দিনে দুই উপজেলায় পাঁচটি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে। নান্দাইলে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ১৮ বছর বানিয়ে চেয়ারম্যান জন্ম নিবন্ধন সনদ দিলে সহজেই শেষ হয় তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুরের ২ নম্বর সদর ইউনিয়নে বিয়ে দুটি হয়েছে গজন্দর গ্রামে। ওই গ্রামের ইলিয়াছের মেয়ে শরিফা আক্তার (১৬) এবং আবুল কালামের নাতনি লাবনির (১৪) বিয়ে হয়েছে গত শুক্রবার। এই দুটি বিয়ের ব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিক মজিবুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে তথ্য দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নির্বিঘ্নেই বিয়ে শেষ হয় বলে এলাকাবাসী জানায়। অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাঁতকুড়া গ্রামের মানিক মিয়ার মেয়ে ময়ূরী (১৫) এবং সদর ইউনিয়নের চান্দের সাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানজিলার বিয়ে হয়। এ ব্যাপারে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম জানান, কয়েকটি বিয়ের ব্যাপারে একজন সাংবাদিকের এসএমএস পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান ওই কনেদের বয়স ১৮ হয়েছে বলে জানান। এরপর আর খোঁজ নেওয়া হয়নি।

এদিকে ময়মনসিংহের নান্দাইলের শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ কাজে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান। তিনি বয়স বাড়ানোর ওই সনদে সই করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। পরে ওই জন্ম সনদ ব্যবহার করে গত শুক্রবার পরিবারের লোকজন অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বিয়ে দেয়।

ভুয়া জন্ম সনদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গত শুক্রবার ছাত্রীর বাড়িতে গেলে পাড়ার কিছু লোক সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তবে তথ্য গোপন করে জন্ম সনদ দেওয়ার অভিযোগে উদ্যোক্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।



মন্তব্য