kalerkantho


মন্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধার জন্য উচ্ছেদ অভিযান?

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার এলাকায় কোনো রকমের নোটিশ না দিয়ে দুই মিনিটের মধ্যে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপির লক্ষ্মীপুর শহরের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য এমন উচ্ছেদ  অভিযান হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

গতকাল রবিবার বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ শহরের চকবাজার এলাকায় জেলা পরিষদ থেকে বন্দোবস্ত নেওয়া দোকানগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে ওই ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলী, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির রহমান সানির নেতৃত্বে এক দল শ্রমিক ওই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলা পরিষদ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দোকানগুলো (চান্দিনাভিটা) ভোগদখল করে আসছে তারা। বিকেলে প্রশাসনের লোকজন এসে তাদের ‘দুই মিনিটের’ মধ্যে দোকানগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে। ওই সময়ের মধ্যে তারা দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি। মুহূর্তের মধ্যে শ্রমিকরা দোকানগুলোর টিনের চাল খুলে ফেলে দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয়। ওই দোকানগুলো হলো বায়েজিদ পোশাক বিতান, সজীব স্টোর ও বিন্দু কালেকশন।

তাদের ভাষ্য মতে, রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাত দেখিয়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার দাপটে দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। কোনো রকমের নিয়ম রক্ষা না করে, সময় না দিয়ে এমন উচ্ছেদ নজিরবিহীন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির এক নেতা বলেন, মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বন্দোবস্তকারীদের উচ্ছেদ করা ঠিক হয়নি। এতে আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলী, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির রহমান সানি বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সেখানে উপস্থিত থাকা জেলা পরিষদের সার্ভেয়র মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

তবে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘জেলা পরিষদ আমাদের কাছে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছে। আমরা সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়েছি। ব্যবসায়ীদের নোটিশ দিয়েছে কি দেয়নি, তা জেলা পরিষদের এখতিয়ার।’

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু দাউদ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, মন্ত্রীর বাড়ির সৌন্দর্য রক্ষা করতে নয়, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। ওই জমিটি এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত ছিল। তাদের মৌখিকভাবে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বক্তব্য জানতে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

 



মন্তব্য