kalerkantho


জাতীয় চিড়িয়াখানা হবে বিশ্ব মানের

শাখাওয়াত হোসাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় চিড়িয়াখানা হবে বিশ্ব মানের

জাতীয় চিড়িয়াখানাকে বিশ্ব্ব মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক চিড়িয়াখানা বিশেষজ্ঞ বার্নার্ড হ্যারিসনকে দেওয়া হয়েছে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির দায়িত্ব। সম্প্রতি তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুরের বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানাকে বিশ্ব্ব মানের প্রাণী সংরক্ষণাগারে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সবচেয়ে বড় এ চিড়িয়াখানাকে দর্শনার্থীবান্ধব করতে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক চিড়িয়াখানা বিশেষজ্ঞ বার্নার্ড হ্যারিসনকে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ। মাস্টারপ্ল্যান শেষ হলেই জাতীয় চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নের মূল কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ও রংপুর চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন’ নামে একটি প্রস্তাবনা ২০১২ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রস্তাব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং একটি জুতসই মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে। পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশার কাজ শেষ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হওয়ার পর ২০১৭ সালে জাতীয় চিড়িয়াখানাকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে আন্তর্জাতিক আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর জাতীয় চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নের কাজ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করে। যাচাই-বাছাই শেষে বার্নার্ড হ্যারিসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বার্নার্ড হ্যারিসন এর আগে সিঙ্গাপুর সাফারি পার্ক এবং সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নের কাজ করেছেন।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যেই মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি। কাজ শুরু হওয়ার ১৪ মাসের মধ্যেই তা প্রস্তুত হবে। এরপর শুরু হবে চিড়িয়াখানা আধুনিকায়নের মূল কাজ।’

তিনি আরো জানান, আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে জাতীয় চিড়িয়াখানা বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। প্রাণী ও দর্শনার্থীদের জন্য পৃথিবীর আধুনিকতম সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে এতে।

কিউরেটর জানান, শিম্পাঞ্জি ছাড়া অন্য সব প্রাণী রয়েছে এ চিড়িয়াখানায়। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় প্রতিবছর নতুন প্রাণী আনা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া চিড়িয়াখানার প্রাণী কমিয়ে এক হাজার ৫০০-তে আনার পরামর্শ রয়েছে বার্নার্ড হ্যারিসনসহ অন্য বিশেষজ্ঞদের। 

জাতীয় চিড়িয়াখানার নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যেও এ বছর জিরাফ, গয়াল ও শকুনের ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। বন্দিদশায় সাধারণত শকুন বাচ্চা দেয় না। জাতীয় চিড়িয়াখানায় এই প্রথম বাচ্চা দিয়েছে শকুন। এ ছাড়া নিয়মিত বাচ্চা দিচ্ছে হরিণ, অজগর, গাধা ও ঘোড়া।

এ ব্যাপারে ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো. নূরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য চিড়িয়াখানায়ও বন্দিদশায় বাচ্চা দেয় না শকুন। তবে আমাদের এখানে দিয়েছে। অন্য প্রাণীগুলোও নিয়মানুযায়ী বাচ্চা দিচ্ছে। তবে গত বছর রাজশাহী থেকে আনা ঘড়িয়ালের প্রজনন ঘটেনি এখনো।’

 

 



মন্তব্য