kalerkantho


বেকারত্বের হতাশা থেকে খুবির সাবেক ছাত্র আত্মঘাতী

খুলনা অফিস   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বেকারত্বের হতাশা থেকে খুবির সাবেক ছাত্র আত্মঘাতী

‘অনেক স্বপ্ন ছিল, চাকরি করব, মার মুখে হাসি ফোটাব। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেল।’ আত্মহত্যার আগে নিজের ডায়েরির পাতায় এমনভাবেই শুরু করেছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজির ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সৈকত রঞ্জন মণ্ডল। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করে দু-দুবার বিসিএস দিয়েও সফল হতে পারেননি তিনি। দরিদ্র পরিবারের বোঝাসহ নানা হতাশা থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হলেন এই তরুণ।

গত শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেটের পূর্ব দিকের ইসলামনগর জামে মসজিদ গলির ডান হাতের একটি দোতলা ভবনের মেসের কক্ষ থেকে পুলিশ সৈকতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। তাঁর বাবার নাম কৃষ্ণ মণ্ডল, মায়ের নাম রানী মণ্ডল। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নে। গতকাল শনিবার তাঁর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সৈকত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের মেসে থাকতেন। শুক্রবার রাতে তাঁদের বাসার পাশের দালানের প্রতিবেশী তাঁর জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে একজনকে ঝুলতে দেখেন। বিষয়টি তিনি অন্যদের জানালে সৈকতের রুমমেট, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভাঙা হয়। পরে সৈকতকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, সৈকত রঞ্জন মণ্ডল দুবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর টেবিলের ড্রয়ার থেকে পাওয়া প্রেসক্রিপশন থেকে জানা যায়, তিনি সম্প্রতি হতাশা থেকে বাঁচতে ডাক্তারের শরণাপন্নও হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সৈকত নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে হতাশার কথা লেখা শুরু করেন।

সৈকতের কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া ডায়রির একটি পাতায় লেখা রয়েছে—‘অনেক স্বপ্ন ছিল, চাকরি করব, মার মুখে হাসি ফোটাব। কিন্তু সব এলোমেলো হয়ে গেল। মার শরীর খুব খারাপ। তবু আমি খুলনা থেকে পড়ার কথা ভাবছি। বাড়িতে যেতে গেলে সব কিছু নিয়ে যেতে হবে। তা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। না আছে টিউশনি, যার ওপর নির্ভর করে খুলনাতে চলছিলাম।’

হরিণটানা থানার ওসি নাসির খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৈকত আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর ডায়েরির পাতায় এমন একটি নোট পাওয়া গেছে।



মন্তব্য