kalerkantho


মাধ্যমিকের উপবৃত্তির টাকাও এখন মোবাইলে

১ অক্টোবর মাধ্যমিকের দ্বিতীয় পর্যায়ের উপবৃত্তি প্রদান

শরীফুল আলম সুমন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মাধ্যমিকের উপবৃত্তির টাকাও এখন অভিভাবকদের মোবাইলেই পাওয়া যাবে। ঘরে বসে নির্দিষ্ট সময়ে এই উপবৃত্তি পাবে শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে এই উপবৃত্তি প্রদানের জন্য বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ অ্যাকাউন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কয়েকটি ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে এই উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে দরিদ্রতা, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিরা অন্যতম। কোনো পরিবারের ৫০ শতাংশের কম জমি থাকলে ও বছরে আয় ৩০ হাজার টাকার কম হলে ওই পরিবারের সদস্যদের বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প চালু হয়েছে।

তবে মাধ্যমিকের এই উপবৃত্তি পেতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে সফলভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হয়। বর্তমানে ১৮৬টি উপজেলার ১২ হাজার স্কুল ও মাদরাসা এই উপবৃত্তির আওতায় রয়েছে। এতে উপবৃত্তি পাবে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। ৩০ শতাংশ মেয়ে ও ২০ শতাংশ ছেলে এই উপবৃত্তি পাচ্ছে।

সূত্র জানায়, মাউশি অধিদপ্তর আগামী ১ অক্টোবর মাধ্যমিকের দ্বিতীয় পর্যায়ের উপবৃত্তি প্রদান করবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে এক শ টাকা, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ১২০ টাকা, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ১৩০ টাকা ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে পাবে ১৫০ টাকা পাবে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এসএসসির ফরম পূরণের ফিও দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে উপবৃত্তির টাকা সহজে, কম সময়ে, কম খরচে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে নির্ভুলভাবে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করাটা ছিল জরুরি। এ লক্ষ্যে গত ৪ জুলাই থেকে ৮ সেপ্টেম্বর এই ৩৫ দিনের মধ্যে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।

মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক শরীফ মুর্তজা মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে মেয়েরা উপবৃত্তি পেত, এখন ছেলেদেরও এই উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে উপবৃত্তির টাকার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এই উপবৃত্তি প্রদানের ফলে বিশেষ করে ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে অনেকাংশে কমেছে। আগে যেখানে একটি ক্লাসে ৩০ জন মেয়ে থাকলে পাঁচ-ছয়জন উপস্থিত থাকত, এখন মাত্র পাঁচ-ছয়জন অনুপস্থিত থাকে। এটা সরকারের একটি বড় অর্জন।’

বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মিজানুর রশীদ বলেন, ‘সরকার মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে এই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সরকারের প্রকল্পের উদ্দেশ্য যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান ছিল বিকাশ। এই পুরো উদ্যোগে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। অতি অল্প সময়ের মধ্যে এত বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ নির্ভুল এবং সুচারুভাবে সম্পন্ন করা ছিল আমাদের জন্য একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আমরা যেভাবে নির্দেশনা পেয়েছি ঠিক সেই অনুযায়ী নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছি। তালিকার বাইরে কাউকে নিবন্ধন করা হয়নি। নিবন্ধনকালীন সময়ে যেসব শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না তাদের কোনো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি।’

জানা যায়, বাবা, মা অথবা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং মোবাইল থাকলেই তাদের বিনা মূল্যে এই বিকাশ অ্যাকাউন্ট করে দেওয়া হয়েছে। তবে একটি নিবন্ধনকৃত সচল সিম, শিক্ষার্থীর ছবি নিয়ে এসে শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। সারা দেশের সব জায়গায় বিকাশের এজেন্ট থাকায় শিক্ষার্থীরা সহজেই উপবৃত্তির টাকা ক্যাশ আউট করতে পারবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

 



মন্তব্য