kalerkantho


পদ্মা-যমুনার পানি বাড়ছেই

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী পথে ধুঁকে ধুঁকে চলছে ফেরি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পানি বেড়ে যাওয়ায় পদ্মায় তীব্র স্রোত এবং নাব্যতা সংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একই কারণে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের শিবচর অংশে বেড়েছে ভাঙনের ব্যাপকতা। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকেছে যমুনার পানি। ব্রহ্মপুত্র নদের পানির চাপে গাইবান্ধার ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের কাইয়ারহাট এলাকায় বাঁধ ভেঙে তিন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

শিবচর (মাদারীপুর) : গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে যাওয়ায় পদ্মায় তীব্র স্রোত এবং নাব্যতা সংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে অধিকাংশ ফেরি বন্ধ হয়ে গেছে। তিন-চারটি ফেরি স্রোতের প্রতিকূলে দীর্ঘ সময় নিয়ে চলাচল করছে। এতে উভয় ঘাটে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় যাত্রী ও শ্রমিকরা ভোগান্তিতে পড়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসিসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, পদ্মায় পানি বাড়তে থাকায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথের লৌহজং টার্নিংয়ে ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে উজানে ব্যাপক নদীভাঙনের পলি স্রোতে ভেসে এসে নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে গত সোমবার সকাল থেকেই ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে ছয়টি ডাম্ব ও একটি রো রোসহ বেশির ভাগ ফেরি বন্ধ হয়ে গেছে। রাত থেকে একটি রো রোসহ তিন-চারটি ফেরি ধারণক্ষমতার কম যানবাহন নিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় ব্যয় করে কোনোমতে চলছে।

বিআইডাব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট ম্যানেজার আব্দুস সালাম বলেন, ‘পদ্মায় তীব্র স্রোত ও উজান থেকে নদীভাঙনের পলি এসে লৌহজং টার্নিংয়ে নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই রো রো ও ডাম্ব ফেরি বন্ধ রয়েছে।’

এদিকে পানি বাড়ার কারণে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদের শিবচর অংশে ভাঙন ব্যাপক বেড়েছে। পদ্মার ভাঙনে চরজানাজাতের আরো একটি মাদরাসাসহ অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে পদ্মা নদীর ভাঙনে চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাড়ে সাত শতাধিক ঘরবাড়ি, ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিলীন হলো। আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে ৪০টি ঘরবাড়ি ও একটি পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও তা অপ্রতুল।

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) : উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে কাজিপুরে যমুনার পানি বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতের কারণে নাটুয়ারপাড়া রক্ষাবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ভারতের অংশে বৃষ্টিপাতের কারণে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে।

এদিকে পানি ঢুকে পড়েছে মহিমাপুর, কালিকাপুর, জিওল, দাঁতবোড়া, পলাশপুর, কালিকাপুর, মাজনাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাসরাজবাড়ি বালিকা বিদ্যালয়সহ ২০টি স্কুলে। জিওল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের জানান, গত রাতে বন্যার পানি বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তায় ঢুকে পড়েছে।

পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ি, পলাশপুর, নতুন মাইজবাড়ি, মাজনাবাড়ি, দাঁতবোড়া, খিরাইকান্দি, শুভগাছা, উজান মেওয়া খোলা, নতুন মাইজবাড়ি, ভাঙ্গারছেও গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষ।

গাইবান্ধা : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদে গতকাল মঙ্গলবার পানি না বাড়লেও শহরের ঘাঘট নদী, গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া ও সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর পানি সামান্য বেড়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র নদ ছাড়া অন্য নদীগুলোর পানি এখনো বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি ঘাট পয়েন্টে এখনো বিপত্সীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে মঙ্গলবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির চাপে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে দুটি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

 



মন্তব্য