kalerkantho


কবিতার দীপ্ত কণ্ঠে ৩৩ বছরে ‘স্বনন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কবিতার দীপ্ত কণ্ঠে ৩৩ বছরে ‘স্বনন’

গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘তন্ময় তটিনীর তীরে’ শিরোনামে বর্ষপূর্তির এ মনোজ্ঞ আসর। ছবি : কালের কণ্ঠ

আবৃত্তির দীপ্ত উচ্চারণে দেখতে দেখতে ৩৩ বছর কাটিয়ে দিল আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’। পথচলার এই ৩৩ বছরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে আবৃত্তির শৈল্পিক সুষমা। আবৃত্তিশিল্পের ৩৩ বছরের সারথি হয়ে কবিতার পঙক্তিকে শিল্পের রূপে রূপান্তর করেছে সংগঠনটি। ৩৩ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানেও আবৃত্তির নান্দনিকতায় সেই প্রমাণই রাখল সংগঠনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘তন্ময় তটিনীর তীরে’ শিরোনামের বর্ষপূর্তির এই মনোজ্ঞ আসর।

মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন, কথামালা, নাচ, গান ও কবিতার দীপ্ত উচ্চারণে সাজানো ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাচিকশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। ঢাকের বাদ্যের তালে তালে বিশেষ অতিথি ও আবৃত্তিশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে আনিসুজ্জামানকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন স্বননের শিল্পীরা। এরপর রবীন্দ্রনাথের ‘আলোকের ঝরনাধারা’ গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন এগনেস র‌্যাচেল প্যারিস প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর দল।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সুন্দর করে কথা বলাটাও একটা শিল্প। আর সুন্দর করে কবিতা পড়ার মাধ্যমে আবৃত্তিশিল্পীরা মানুষকে নির্মল বিনোদন দেয়। কবিতার মাধ্যমে অন্যকে বিনোদিত করার কাজটা আবৃত্তিশিল্পীরাই করে যাচ্ছে।’

সেলিনা হোসেন বলেন, ‘সাংস্কৃতিক ব্যর্থতার কারণেই জঙ্গি উত্থান হয়েছে। মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্ম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। আবৃত্তিশিল্পীরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে সমাজের অন্ধকার দূর করছে।’

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘একসময় কবি ও আবৃত্তিকারদের মধ্যে একটা দূরত্ব ছিল। আবৃত্তিশিল্পীরা বই পড়েই আবৃত্তি করত। কিন্তু এখন আবৃত্তিশিল্পের প্রসারে ভালো ভালো কবিতা লিখে কবিরাও এগিয়ে এসেছে। আবৃত্তিশিল্পের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো দিক।’

তরুণ শিল্পীদের শাস্ত্রীয় সংগীতের

আসর ‘সুনাদ’

ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি ভেসে বেড়াল শাস্ত্রীয় সংগীতের মধুর ধ্বনি। কখনো তবলার লহরি, কখনো মনকাড়া সরোদের ঝংকার। কখনো বা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে শিল্পীদের কণ্ঠমাধুরী। যাঁরা শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করলেন, তাঁদের সবাই তরুণ শিল্পী। তাঁরা সবাই বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী। এ প্রতিষ্ঠানের তরুণ শিল্পীদের নিয়ে দুই দিনের প্রথম উচ্চাঙ্গসংগীত আসরের আয়োজন হলো। ‘সুনাদ’ শিরোনামের দুই দিনের এ সংগীত আসরে দেশের তরুণ শিল্পীরাই শাস্ত্রীয় সংগীতের রাগ-রাগিণীর পরিবেশনায় মুগ্ধতা ছড়ালেন। আয়োজকরা জানালেন, নবীন ও প্রতিভাবান শিল্পীদের উচ্চাঙ্গসংগীতে উৎসাহিত করতেই এই আয়োজন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শুরু হয় এই আসরের প্রথম দিনের পরিবেশনা। এ আসরে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের নিজস্ব ও অতিথি শিল্পীরা বিভিন্ন ঘরানার উচ্চাঙ্গসংগীত পরিবেশন করেন। আয়োজনের শুরুতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের উত্তরীয় পরিয়ে এ আসরের উদ্বোধন করেন। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিজগতের অনেকেই উপস্থিত ছিল সংগীত আসরে।



মন্তব্য