kalerkantho


‘কুতুবপুরে অটোরিকশায় বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজি’

শ্রমিক লীগ নেতার অনুসারী ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের ১১ অনুসারীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মালিক ও শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার ফতুল্লার চাঁদমারীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে মালিক ও শ্রমিকরা স্মারকলিপিটি দাখিল করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জের ধরে শাহাদাৎ হোসেন সেন্টু, আজিজুল হক, মজিবুর রহমান, সালু পাটুয়ারী, কাওসার, মোশারফ, ইমরান, শরীফ, সাইদুল, সোহাগ, ফারুকসহ আরো কয়েকজন ইজি বাইক বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। শাহাদাৎ হোসেন ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্সের জেলা কমিটির সভাপতি। ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি হলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশ। এ ছাড়া তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক। 

গত রবিবার ফতুল্লার নয়ামাটিতে সংবাদ সম্মেলনে কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলে, ‘আমাদের ঘাম ঝরানো অর্থ টোকেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে নিয়ে যায়। বিপদে-আপদে পড়লে সাহায্য-সহযোগিতার কথা বলে প্রতিদিন আমাদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ছয় বছর আগে টোকেন বাবদ প্রতি অটোরিকশা থেকে ছয় হাজার ৫০০ টাকা করে ৪০০ অটোরিকশা থেকে নেওয়া হয়েছে ২৬ লাখ টাকা। প্রতিদিন ৩০ টাকা চাঁদা হিসেবে ৪০০ অটোরিকশা থেকে বছরে ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেয়। এ ছাড়া মাসিক ৩০০ টাকা হিসাবে বছরে আরো ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের কথা বলা হলেও গত ছয় বছরে কেউই কল্যাণ ফান্ডের কোনো হিসাব পায়নি। বরং হিসাব চাওয়ায় কমিটির সদস্যদের লাঞ্ছিত করে কমিটি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আর কোনো চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে চাই না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি অচিরেই যেন আমাদের এই চাঁদা দেওয়া বন্ধ হয়। আমরা স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকেও জানিয়েছি, তিনি আমাদেরকে কাউকে চাঁদা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে কাউসার আহাম্মেদ পলাশ গণমাধ্যমকে জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগ সত্য নয়। যদি এ ধরনের কোনো প্রমাণ থেকে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ একটি স্বাধীন সংগঠন। এখানে কোনো চাঁদাবাজি হয় না। 

 

 



মন্তব্য