kalerkantho


পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ দেশের বেশির ভাগ নদ-নদীতে পানি বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে তীব্র হচ্ছে ভাঙন। রাজবাড়ীতে নদী তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। মাদারীপুরের শিবচরে প্রমত্তা পদ্মার তীব্র ভাঙনের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আড়িয়াল খাঁ। ব্যাপক ভাঙনে এরই মধ্যে ৩০টি ঘরবাড়ি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কপোতাক্ষ নদে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ। কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরের শিবচর অংশে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পদ্মায় গত কয়েক দিনের তীব্র ভাঙনে উপজেলার চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নে এ পর্যন্ত চারটি স্কুল, একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সাত শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আড়িয়াল খাঁ নদের  ভাঙন। এই নদের ভাঙনে এরই মধ্যে ৩০টি ঘরবাড়ি ও একটি পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও তাতে খুব একটা ফল মিলছে না।

জানা যায়, গতকাল বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর শিবচর অংশে ছয় সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে স্রোতের তীব্রতাও। একই সঙ্গে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতে উপজেলার সন্ন্যাসীর চরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে পাঁচচর-সন্ন্যাসীর চর-বন্দরখোলা সড়কের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে বাজার, ব্রিজ, সড়কসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত : তীব্র স্রোত ও চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে রো রো ও ডাম্ব ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। হালকা যানবাহন নিয়ে পাঁচ-ছয়টি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তীব্র স্রোতে ফেরি পারাপারে বেশি সময় লেগে যাওয়ায় উভয় ঘাটে সাত শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে আছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বাসের যাত্রী ও শ্রমিকরা।

খুলনা অফিস জানায়, পাইকগাছা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে হরিঢালী ইউনিয়নের মামুদকাটী খেয়াঘাটসংলগ্ন ওয়াপদার বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কুমারেশ দে বলেন, কপোতাক্ষ নদ এলাকার সাবেক মেম্বার নির্মলের বাড়ি থেকে মামুদকাটী খেয়াঘাটসংলগ্ন শ্মশান ঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী পাখিমারা বিলে টিআরএম পদ্ধতি চালু করায় কপোতাক্ষ নদে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়ে নদীতে ভাঙন বেড়েছে। অথচ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো উদ্যোগ নেই।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ধরলার পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপত্সীমার কাছেই রয়েছে। নদ-নদীর অববাহিকায় দুই শতাধিক চর গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও পাঁছগাছি, উলিপুরের সাহেবের আলগা, চিলমারীর অষ্টমীর চর ও নয়ারহাট, নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া ও নারায়ণপুর, রৌমারীর দাঁতভাঙাসহ বেশ কিছু এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। কাজ ও খাদ্য সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে পানিবন্দি মানুষের। এসব এলাকার প্রায় তিন হাজার হেক্টর আমন ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেত তলিয়ে আছে।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, পদ্মা নদীর রাজবাড়ী পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। ঘূর্ণমান তীব্র স্রোতের কারণে জেলার ৮৫ কিলোমিটার নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। চার দফায় রাজবাড়ী জেলা শহরসংলগ্ন গোদার বাজার ঘাট এলাকায় প্রায় ৬০০ মিটার নদী তীর রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লক ধসে গেছে। গতকালও ধসে গেছে ১০০ মিটার এলাকার সিসি ব্লক। এ কারণে শহর রক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর, পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া এবং গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙন চলছে।

 

 

 



মন্তব্য