kalerkantho

বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল সংসদে

অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বিলটি পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ উত্থাপন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনায় কেউ আহত বা নিহত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানসংবলিত বিলটি গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেটি পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে।

গতকাল বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনকালে আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, “প্রস্তাবিত আইনের ১০৫ ধারায় বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী। দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। হত্যা না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। বিলে আরো বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহাই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোন ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটিলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’”

বিলে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত পয়েন্টের নিচে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। চালককে নতুন করে আবার লাইসেন্স নিতে হবে। বিলে ব্যক্তিগত গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই অন্তত ১৮ বছর রাখা হয়েছে। তবে পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।

সংসদে উত্থাপিত বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকের কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাসের শর্ত রাখা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। নতুন আইনে সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে। বিদ্যমান অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধানও থাকছে।

বিলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ছয় মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সহকারীরও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বিলে।

নতুন আইনের বিধি অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে বিলে। লাইসেন্সে থাকা মোট ১২ পয়েন্ট বিভিন্ন বিধি অমান্য করলে ক্রমান্বয়ে কাটা যাবে। পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স।

প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনটি গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ওই আইনের খাসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হয়।

মন্তব্য