kalerkantho

দুর্নীতির তদন্ত

বিএনপির মোরশেদ খান ও জাপার হাওলাদারকে দুদকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাড়ে তিন শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন খানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা তলবি নোটিশ পাঠিয়েছেন। দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের সই করা চিঠিতে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাঁদের হাজির হতে বলা হয়েছে। এদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই তারিখে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকেও তলব করেছে দুদক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৮ সেপ্টেম্বর মোরশেদ খান ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। ব্যাংকের ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৮ জুন ঢাকার বনানী থানায় করা মামলায় মোরশেদ খানের স্ত্রী নাসরিন খান, সিটিসেলের এমডি মেহবুব চৌধুরীসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটিসেলের মূল কম্পানির নাম প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল)। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান পিবিএলের চেয়ারম্যান, তাঁর স্ত্রী নাসরিন খান ওই কম্পানির একজন পরিচালক।

এদিকে আরেক মামলায় মোরশেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোরশেদ খানকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালে গুলশান থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তাঁকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোরশেদ খানের বিরুদ্ধে মামলায় ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন শ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে জালিয়াতি করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ওই টাকা হাতিয়ে নেন।

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে প্যাসিফিক মোটরস যখন সিটিসেলের মালিকানায় আসে মোরশেদ খান তখন মন্ত্রীর মর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিনিয়োগবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বে ছিলেন। আর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের সময়ে সিটিসেল যখন লাইসেন্স পায় মোরশেদ খান তখন ছিলেন জাতীয় পার্টির কোষাধ্যক্ষ। তখন দেশে একমাত্র মোবাইল অপারেটর হওয়ার সুযোগে সিটিসেল একচেটিয়া ব্যবসা করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আরো কম্পানিকে মোবাইল ফোন সেবার লাইসেন্স দেওয়ায় সেই একচেটিয়া ব্যবসার অবসান ঘটে। এর পর থেকে ধুঁকতে থাকা সিটিসেলে ২০০৪ সালে বিনিয়োগ করে সিঙ্গাপুরের সিংটেল। কিন্তু ব্যবসার আর প্রসার ঘটেনি।

জাপার হাওলাদারকে তলব

অবৈধভাবে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুদক। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আহমেদের সই করা নোটিশ তাঁকে পাঠানো হয়েছে। প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে সরকারি আমলা ও আদালতে উেকাচ প্রদান এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে শতকোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের একাধিক প্লটের মালিক হওয়ার অভিযোগেরও অনুসন্ধান করছে দুদক।’

 

মন্তব্য