kalerkantho


লিমার ‘প্রেমযুদ্ধ’

প্রভাবশালী বাবার বিচার চাইলেন মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হত্যা, অপহরণের হুমকি, হয়রানি আর মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন অভিজাত পরিবারের এক অসহায় তরুণী। প্রেমযুদ্ধে জিততে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এমনকি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বাবার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন লিমা সাহা (২৮)। সংবাদ সম্মেলনে স্বামী সৈকত ছাড়াও অন্য স্বজনরা উপস্থিত ছিল।

লিখিত বক্তব্যে লিমা সাহা জানান, তাঁর বাবা সুরেশ সরিষার তেল কম্পানির কর্ণধার সুধীর চন্দ্র সাহা। বাবার অমতে নিজের পছন্দের ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করায় তাঁকেসহ তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে প্রতিনিয়ত হত্যা ও অপহরণের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তাঁর বাবা। তাঁদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন একরকম অবরুদ্ধ জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় জীবন বাঁচাতে নরসিংদীর গ্রামের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁরা।

লিমা বলেন, ‘আমি মাস্টার্স শেষ করা একজন বাংলাদেশি নাগরিক। সৈকত পালকে ভালোবেসে প্রাপ্ত বয়সে আমরা দুজন হিন্দু রেজিস্ট্রিমূলে ও আদালতের ম্যারেজ হলফনামায় সই করে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেছি।’

লিমা বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় সহপাঠী সৈকতের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সৈকত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার চেয়ে আমার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো। এ কারণে শুরু থেকেই সম্পর্কটি মানতে চাননি আমার বাবা। শুধু সৈকতকে ভুলে যেতে আমাকে দুই বছরেরও বেশি সময় গৃহবন্দি করে রাখা হয়। নিয়মিত আমাকে মারধর করা হতো। শেষমেশ ভারতে নিয়েও জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ভারতীয় পুলিশের সহযোগিতায় আমি বাংলাদেশে পালিয়ে আসি। পরবর্তী সময়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে আমার বাবার কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে গত ২৪ মে হিন্দুরীতি অনুযায়ী রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সৈকতকে বিয়ে করি।’

লিমা সাহা বলেন, ‘গত ১২ জুন সৈকতকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাবা ভাড়াটে মাস্তান ঠিক করেন। ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় এসেও বাবার গুণ্ডারা ওত পেতে থাকে। একদিন সৈকত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় নিউ মার্কেটের ১ নম্বর গেটের সামনে একটি মাইক্রোবাসে বাবার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা সৈকতকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা চালায়। তবে নিউ মার্কেট থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় সৈকত রক্ষা পায়। বাবার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সে সময় আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিউ মার্কেট থানায় একটি মামলাও করা হয়।’ লিমা বলেন, ‘এর পরও বাবা থামেননি। উনি জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের আমাদেরকে হয়রানি করতে থাকেন। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে থাকেন। সামাজিকভাবে হয়রানি করতে থাকেন। এর মধ্যেই আমি আমার একটি সুখবর জানালে আমার মা আমাকে ডাক্তারি পরামর্শে সব শেষ করার কথা বলেন।’

লিমা সাহা আবেগতাড়িত হয়ে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমি আজ সন্তান হিসেবে বাবার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আসিনি। এসেছি অপরাধীর বিরুদ্ধে একজন নিরীহ মানুষ হিসেবে বিচার চাইতে। সেই সঙ্গে আমার এলাকার স্থানীয় মন্ত্রী, এমপি ও মেয়র থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি, আমি যেন স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে পারি। একটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি।’



মন্তব্য