kalerkantho


‘অধিকতর তদন্তে আইন ও পদ্ধতিগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘অধিকতর তদন্তে আইন ও পদ্ধতিগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র, অপরাধ সংঘটন, অপরাধের আলামত ধ্বংস ও অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। গতকাল বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে উদ্ভূত হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের দুটি মামলায় আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী আকরাম উদ্দিন শ্যামল এ কথা বলেন।

মামলার অধিকতর তদন্ত বিষয়ে আকরাম উদ্দিন শ্যামল বলেন, প্রসিকিউশন আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। এ ছাড়া আদালত চাইলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। এ মামলায় অধিকতর তদন্তে আইন ও পদ্ধতিগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্র বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় দফায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যথাযথ আইন ও পদ্ধতি অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।

রাজধানীর নাজিমুদ্দীন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি চলছে। বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন দুটি মামলার বিচারকাজ একসঙ্গে চালাচ্ছেন। গতকাল কাজী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান শুনানি শুরু করেন।

আইনজীবী শ্যামল বলেন, এ মামলার অন্যতম আসামি পাকিস্তানি জঙ্গি মাজেদ ভাটের স্ত্রী নাহিদ লায়লা কাকন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিপক্ষ এই সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তারা উচ্চ আদালতে গিয়েছে। উচ্চ আদালত বিষয়টি বিচারিক আদালতের হাতেই ন্যস্ত করেছেন। হেয়ারস এভিডেন্স (শোনা সাক্ষ্য) বিষয়ে শ্যামল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হত্যা মামলার অনুরূপ এক সাক্ষ্যের উদাহরণ আদালতে তুলে ধরেন।

বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া তাঁর যুক্তিতর্কে বলেন, ২১ আগস্ট হামলার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও চিরদিনের জন্য স্থায়ী করা। তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক সহায়তা, অপরাধ সংঘটনসহ সব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য, তথ্য-প্রমাণ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ পেশ করেছে। তিনি আইনি পয়েন্টে বিভিন্ন রেফারেন্স আদালতে পেশ করেন। বলেন, একটি ডিজাইন বা ছক করে সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নৃশংস এ হামলা। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে তাঁর যুক্তিতর্ক পেশ সমাপ্ত করেন।

প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনি বিষয়ে যুক্তিতর্ক শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ মামলা আমরা পরিচালনা করছি। এ সময় আদালত অনেক ধৈর্যের প্রমাণ রেখেছেন, যা ইতিহাসে অনন্য। মামলার বিচার একেবারেই শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে দুটি মামলা এগিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য। আসামিপক্ষ এ মামলায় আইনের দৃষ্টিতে সব সুবিধা গ্রহণ করেছে।’ তিনি বলেন, মামলাটিতে ৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরার পর অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে আইনগত ও পদ্ধতিগত কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত রয়েছে।

 



মন্তব্য