kalerkantho


টাকার অভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না দুর্দিনে সরব আওয়ামী লীগ নেতা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



টাকার অভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেন না দুর্দিনে সরব আওয়ামী লীগ নেতা

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এস এম শফি (৬৩) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁকে ডায়ালিসিস করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর হার্টের অবস্থাও বেশ দুর্বল (মাত্র ৩৬ শতাংশ সক্রিয়) হওয়ায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত তাঁর অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অর্থের দরকার, তাঁর পক্ষে তা জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় দলের দুর্দিনে সরব এই নেতার চিকিৎসায় তাঁর পরিবার সরকারের সহায়তা কামনা করেছে।

এস এম শফি কয়েক বছর ধরেই ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এর আগে চিকিৎসার জন্য কয়েকবার ভারতেও গেছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে ইচ্ছা থাকলেও ভারতে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেননি। সম্প্রতি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন বা সিঙ্গাপুরে নিয়ে ডায়ালিসিস করার পরামর্শ দিয়েছেন। হাসপাতালে রাখা ব্যয়বহুল হওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রামের বাড়িতেই দুর্বিষহ জীবন কাটছে তাঁর।

এস এম শফির ছোট ছেলে প্রকৌশলী এস এম নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অর্থের অভাবে বাবার কিডনি প্রতিস্থাপন করা বা বিদেশে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে ডায়ালিসিস করা সম্ভব হচ্ছে না। বিএনপি শাসনামলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা চালাতে গিয়ে তিনি পৈতৃক সব সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হন।’

এস এম শফি বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের আগে চট্টগ্রামের ফাতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জাতির জনককে হত্যার পর মদুনাহাটে বিক্ষোভের জেরে আরো কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর ওপরও হুলিয়া জারি করা হয়। পরে একই বছরের ২৫ আগস্ট পালিয়ে খাগড়াছড়ি আসেন তিনি। পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী চাঁদের গাড়িও (খোলা জিপ) চালান। খাগড়াছড়ি পরিবহন মালিক গ্রুপের সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেন। পৌরসভায় টানা তিনবার কাউন্সিলর ছিলেন। বর্তমানে তিনি সরকারের শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য। অর্থসম্পদ না থাকলেও তিনি বহু জনহিতকর কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এস এম শফির চিকিৎসায় অনেক টাকা প্রয়োজন। দুঃসময়ের এই নেতাকে রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা স্বজনরা।

 

 

 



মন্তব্য