kalerkantho


রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাঠামো তৈরি উদ্যোগ

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত হলে যাবে সাধারণ পরিষদে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধীসহ অন্যান্য অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি কাঠামো সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বেশ কয়েকটি সদস্য। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মানবাধিকার পরিষদে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন ও সুপারিশ উপস্থাপনের পর ওই কাঠামো সৃষ্টির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোট হতে পারে। সেই প্রস্তাব গৃহীত হলে তা বিবেচনার জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সেই প্রস্তাব গৃহীত হলেই রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাঠামো সৃষ্টির পথ খুলবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাশেলেট গতকাল সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিচারিক এখতিয়ার আছে বলে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

মিশেল ব্ল্যাশেলেট বলেন, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে স্বাধীন ও স্বচ্ছ বিচার তরান্বিত করতে সম্ভাব্য ওই কাঠামো রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। এই কাঠামো আইসিসির কৌঁসুলির প্রাথমিক তদন্তেও সহযোগিতা করবে। কাঠামো সৃষ্টির জন্য আমি মানবাধিকার পরিষদকে প্রস্তাব গ্রহণ এবং তা অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানোর আহ্বান জানাই।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত অপরাধের দায়মুক্তির অবসান এবং তাদের চরম দুর্দশা লাঘবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে থাকবে। মানবাধিকার কমিশন শিগগিরই মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধানী দলের অত্যন্ত ভয়াবহ প্রতিবেদন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত হবে। ওই দল এরই মধ্যে রাখাইন, শান ও কাচিন রাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভয়ংকর অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন চিহ্নিত করেছে। সত্যানুসন্ধানী দল মিয়ানমারের ওই তিন রাজ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। ওই দল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গণহত্যা, নির্মূল ও দেশছাড়া করার জোরালো আলামতও পেয়েছে ।

হাইকমিশনার মিশেল ব্ল্যাশেলেট বলেন, গণহারে হত্যাযজ্ঞের খবর সংগ্রহের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাংবাদিকদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং এখন কঠিন সাজা দেওয়ার খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অনতিবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন অব্যাহত আছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর এযাবৎ ১২ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সত্যানুসন্ধানী দল কাচিন ও শান রাজ্যেও বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আইনবহির্ভূত হত্যা, শিশুসহ অন্যদের ওপর নির্যাতন ও অন্যান্য কায়দায় দুর্ব্যবহার, যৌন সহিংসতা, পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করার আলামত পেয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই প্রবণতা মিয়ানমার বাহিনীর সর্বাত্মক দায়মুক্তির ইঙ্গিত করে।

সিরিয়ার আদলে মিয়ানমার নিয়ে সাধারণ পরিষদে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কয়েক মাস ধরে কাজ করছে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সত্যানুসন্ধানী দল মানবাধিকার পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর ওই উদ্যোগ বিশেষ মাত্রা পাবে।

 



মন্তব্য