kalerkantho


ভয়াল পদ্মার মুখে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ভাঙনখেলা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভয়াল পদ্মার মুখে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ভয়ংকর হয়ে উঠছে পদ্মা নদী। গ্রাস করছে পারে থাকা বহু ঘরবাড়ি। যেকোনো মুহূর্তে এ নদীর পেটে চলে যেতে পারে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভাঙনখেলায় প্রতিমুহূর্তে একটু একটু করে বিভিন্ন স্থাপনা গিলছে পদ্মা। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীর এরই মধ্যে চলে গেছে পদ্মার গর্ভে। এখন ধীরে ধীরে মূল ভবনের দিকে এগোচ্ছে পদ্মা। হাসপাতালটির নতুন ভবনের পাইলিংয়ের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ফাটল দেখা দিয়েছে উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালের মূল ভবনে। ওই হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের একটি আবাসিক কক্ষে কোনো রকম জরুরি সেবা চালু রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের মূল ভবন, আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ আরো কয়েকটি স্থাপনা পদ্মার গর্ভে যেতে এখন সময়ের অপেক্ষা। এদিকে গত তিন দিনে আরো শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরো ১২টি ভবন, ঐতিহ্যবাহী মূলফত্গঞ্জ আলিয়া মাদরাসাসহ শত শত পাকা, আধাপাকা বাড়িঘর ও মূলফত্গঞ্জ বাজারের শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার আগ্রাসনে গত তিন মাসে নড়িয়ার চার হাজার পরিবারের পাকা, সেমিপাকা ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ কাঁচা-পাকা একাধিক সড়ক বিলীন হয়েছে। 

হাসপাতালে চিকিৎসক থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে কোনো রোগী দেখা যায়নি। হাসপাতালের সামনে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনকবলিত ক্ষতিগ্রস্তরা বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

কেদারপুর গ্রামের রানী দাস বলেন, ‘আমাগো সব পদ্মায় নিয়ে গেছে। সব হারিয়ে আমরা মন্দিরে আইসা প্রার্থনা করতাম, শনিবারের ভাঙনে আমাগো মন্দিরও বিলীন হইয়া গেছে। অহন আমরা কই গিয়া প্রার্থনা করুম? আমাগো তো আর কিছুই থাকল না।’

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্ত ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘কয়েক দিনে ৩০০ বছরের পুরাতন মূলফত্গঞ্জ বাজারের কয়েকটি ক্লিনিক, শপিং মলসহ দুই শতাধিক দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমরা খুবই অসহায়। সরকারের এমপি, মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কেউ আমাদের দেখতে আসেনি। আমরা এ এলাকাকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।’

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুনীর আহমেদ বলেন, গত রবিবার সকাল থেকে হাসপাতালের স্থাপনা পদ্মায় বিলীন হতে শুরু করে। হাসপাতালের মূল ভবনে ফাটল ধরেছে, যেকোনো সময় ওটা নদীতে ধসে পড়তে পারে। পদ্মার ভাঙনে হাসপাতালের ১২টি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসকদের একটি আবাসিক ভবন নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। হাসপাতালের ১২টি ভবনের নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা, যার মধ্যে একটি দ্বিতল ভবন বিক্রি করা হলো ৩৫ হাজার টাকায়। ভাঙন আতঙ্কে রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছে। এখন সীমিত পরিসরে জরুরি ও বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন বলেন, ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙনকবলিত তিন হাজার ৫০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

শিবচরের মানুষ ভাঙনে দিশাহারা

এদিকে শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, শিবচরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে তিনটি ইউনিয়নে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে চরবাসী। দ্বিতীয় দফায় ভাঙন আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। ভাঙনের মুখে রয়েছে গ্রামীণফোনের টাওয়ারসহ শত শত ঘরবাড়ি, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, ভাঙন আক্রান্তদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 



মন্তব্য