kalerkantho


নবীগঞ্জে শিশু চিকিৎসা নিয়ে হয়রানির ঘটনা তদন্ত করছে কমিটি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নবীগঞ্জে ৪০ দিন বয়সী শিশুর চিকিৎসা নিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। আউশকান্দি বাজারে অরবিট হাসপাতালের চিকিৎসক এ এইচ এম খায়রুল বাশার শিশুটিকে দেখার পর মৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেন। সেখানে চিকিৎসক শিশুটির বড় ধরনের সমস্যা নেই বলে জানালেও খায়রুল বাশার তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার জন্য বলেন। চিকিৎসকের এহেন কর্মে স্থানীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদকে। অন্য সদস্যরা হলেন মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী ও ডা. জান্নাত আরা চৌধুরী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ফুলতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা রুবেল মিয়া ও শিরিন আক্তার দম্পতির ৪০ দিন বয়সী কন্যা ইসমত নাহার। শিশুটির ঘন ঘন হেচকি হলে ৩১ আগস্ট সকালে নেওয়া হয় আউশকান্দি বাজারের অরবিট হাসপাতালে। সেখানে নবজাতক ও শিশুরোগ চিকিৎসক এ এইচ এম খায়রুল বাশার ৫০০ টাকা ভিজিট নিয়ে কিছু ওষুধ লিখে দেন। পরদিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি না ঘটলে তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দেন মৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালে নিয়ে যেতে। সেখানে ডাক্তার বিশ্বজিতের কাছে পৌঁছে টেলিফোনে যোগাযোগ করতে বলেন।

শিশুটির মা শিরিন আক্তারের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুই চিকিৎসকের কথা হয়। ডাক্তার বিশ্বজিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ বলে জানালেও ডাক্তার বাশার ভিন্ন মত দেন। তিনি শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক দাবি করে হাসপাতালে ভর্তি রাখতে বলেন। শিরিন আক্তারের মোবাইলে কল রেকর্ড চালু থাকায় দুই চিকিৎসকের কথোপকথন পরে শোনা যায়। সেই অডিও ফাঁস হয়ে গেলে এলাকায় জানাজানি হয়। দরিদ্র পরিবারকে চিকিৎসার নামে হয়রানি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে উত্থাপন হলে অনেকে তীব্র সমালোচনা করেন। এ অবস্থায় ঘটনা যাচাইয়ে সিভিল সার্জনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী জানান, গুরুত্ব দিয়ে ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



মন্তব্য