kalerkantho


ইলিশের জীবনরহস্য

‘গবেষণাটি হাইজ্যাকের চেষ্টা চলছে’

বাকৃবি প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘গবেষণাটি হাইজ্যাকের চেষ্টা চলছে’

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনের গবেষণাটি হাইজ্যাকের অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। তাঁরা দাবি করেছেন, এ গবেষণার কাজটি তাঁরাই প্রথম করেছেন। এ নিয়ে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠলেও এ গবেষণার একক দাবিদার বাকৃবি। গবেষকরা জানান, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনের গবেষণায় নামেন তাঁরা। ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো জিনোম অ্যাসেম্বলি প্রস্তুত হয়। ওই বছরের ২৫ আগস্ট ইলিশের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিনোম ডাটা বেইস ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনে (এনসিবিআই)’ জমা করা হয়। এ ছাড়া ইলিশের জিনোম বিষয়ে গবেষণালব্ধ ফল দুটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সেও উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের দাবি, ইন্টারন্যাশনাল ডাটা বেইসে শুধু বাকৃবির নামটিই রয়েছে। অন্য কেউ এ নিয়ে কাজ করলে তাদের তথ্যও থাকত। ইন্টারনেটে সার্চ করে তাঁরা কারো তথ্য খুঁজে পাননি। গতকাল সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলনকক্ষে ‘ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং ডি নোভো অ্যাসেম্বলি সম্পন্ন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ দাবি করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম বলেন, ‘আমরা আজ সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) আবিষ্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য অনেক দিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। যখনই আমরা অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় চূড়ান্ত করলাম, তখন অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিক এ বিষয়ক প্রতিবেদন ছাপাল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের মানুষ যাতে সঠিক তথ্য পায়, সে জন্য আমরা গত শনিবার তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনে আমাদের সাফল্যের কথা দেশবাসীকে জানাতে বাধ্য হয়েছি। আমরাও বলছি, একই বিষয়ে অনেকে একই সময়ে গবেষণা করতেই পারে। আমাদের গবেষণাটি অনেক আগে শেষ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তার প্রমাণও রয়েছে। এমনকি আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আন্তর্জাতিক সেমিনারের মাধ্যমে কাজটি করার কথা জানিয়েছিলাম।’

ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে ইলিশ গবেষণার একটি প্রশস্ত দরজা খুলল। তবে এটি জানতে ও বুঝতে আমাদের আরো সময় লাগবে। এ থেকে সুফল পেতে আরো ধারাবাহিক গবেষণা প্রয়োজন।’

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন আবিষ্কারের সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদসহ ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনকারী গবেষক দল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও বিজ্ঞানীরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ও সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের সভাপতি ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার।

 



মন্তব্য