kalerkantho


অন্ধজনে আলো ছড়াচ্ছেন তিনি

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অন্ধজনে আলো ছড়াচ্ছেন তিনি

ইউনিয়নে একটি চক্ষু শিবিরে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছেলে অসময়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। শোকে দুই চোখে অশ্রু ঝরছে সন্তানহারা মায়ের। ১৩ বছর ধরে তিনি অন্ধ। বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের চাষী পতাং গ্রামের সেতারা বেগম। চার মেয়ে ঘুরেছেন বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে; কিন্তু আশার আলো দেখাতে পারেনি কেউ। আলোর দেখা মিলবে না—এমনটি ভেবে হাল প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন সেতারা বেগম। অবশেষে আশার আলো হয়ে হাজির হলেন সালাহউদ্দিন রিপন। বরিশালের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এসআর সমাজকল্যাণ সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান তিনি। জটিল অস্ত্রোপচারের খরচ দিয়ে তিনি শুধু দৃষ্টিই ফেরাননি সেতারা বেগমের, স্বাবলম্বী হতে সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত তিন মাসে বরিশাল সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২টি ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার রোগীর চোখের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই হাজার জনের চোখে ছানি পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে এক হাজার ২০০ জনের ছানি অপারেশন করে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ১৫০ রোগীর নেত্রনালি অপারেশন করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে সাত হাজার জনকে ওষুধের পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে নতুন চশমা। এ ছাড়া ৯ হাজারেরও বেশি রোগীকে চোখের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। রোগীরা প্রায়ই সংস্থার খরচে ইস্পাহানি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

কল্যাণমুখী যত কর্মসূচি : ‘মানুষের কল্যাণে—এসআর সমাজকল্যাণ সংস্থা’ এই মন্ত্রে বহুমুখী কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে ১৭ হাজারেরও বেশি অসচ্ছল-অসহায় মহিলাকে হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী তথা আর্থিক ক্ষমতায়নে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের মাধ্যমে তালিকা তৈরি করে সংস্থার নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবীরা আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছেন। সংস্থার পক্ষ থেকে গৃহহীনদের ঘর তৈরিতে সহায়তার চলমান কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার পরিবারকে ঢেউটিন দেওয়া হবে।

কলেজজীবনে সালাহউদ্দিন রিপন চরবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি রেলওয়ে শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা। সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে রিপনের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অর্থাভাবে কারো পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয় সে জন্য স্থায়ী কর্মসূচি নেওয়া হবে। শিক্ষার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। দুস্থ ও অসহায় নারী-পুরুষদের স্বাবলম্বী করার জন্য অর্থ সহায়তা দিচ্ছি।’ মানবকল্যাণে নিজের জীবন ও সম্পদকে উৎসর্গ করতে এবং এলাকাবাসীর যেকোনো প্রয়োজন ও আহ্বানে তিনি সাড়া দেবেন বলেও জানান।

 



মন্তব্য