kalerkantho


বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীতে ফাহিম রাফি (২০) নামে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, ফাহিম খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। তবে খিদমাহ হাসপাতাল থেকে অপরিচিত ব্যক্তি জানিয়েছে, তিনি হাতিরঝিলে চক্রাকার বাস থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন।

খিলগাঁও থানার ওসি অপারেশন সজিব দে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে খিদমাহ হাসপাতালসংলগ্ন সড়কে চলন্ত বাস থেকে পড়ে গিয়ে থুতনিতে আঘাত পান ওই ছাত্র। এরপর পথচারীরা দ্রুত তাঁকে প্রথমে খিদমাহ হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখানেও তাঁর অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরে রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

পরিবারের লোকজন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না যে চলন্ত বাস থেকে পড়ে গিয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাদের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। রাফির বাবা মনিরুজ্জামান বলেন, রাফি বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন না অন্য কারণে মারা গেছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবারের লোকজন জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাফি দক্ষিণ বাসাবোর বাসা থেকে হাতিরঝিলে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। পরে রাত ৮টার দিকে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালে গিয়ে স্বজনরা তাঁকে পায়। কিন্তু কারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তা জানা যায়নি। রাতে হাসপাতাল থেকে একজন পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে জানায়, রাফি হাতিরঝিলে চক্রাকার চলন্ত বাস থেকে নামার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খিদমাহ হাসপাতালে নেওয়া হয়।  

হাতিরঝিল থানার ওসি ফজলুর রহমান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, হাতিরঝিলে বাসচাপায় এক ছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে হাতিরঝিলে বাস দুর্ঘটনায় কেউ মারা যায়নি। এমনকি ওই সময়ে কোনো দুর্ঘটনার খবরও কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

গতকাল সরেজমিনে হাতিঝিলের নিরাপত্তাকর্মী ও বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলেও এই নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তারা সবাই বলছে, শুক্রবার হাতিরঝিলে বাস দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হয়নি। হাতিরঝিলের  আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ধারণা, হাতিরঝিল নয়, অন্য কোথাও মৃত্যু হয়েছে রাফির। সেটা হতে পারে বাস দুর্ঘটনায়, আবার কেউ তাঁকে হত্যাও করতে পারতে। তবে কেন তাঁকে হত্যা করা হবে, এই নিয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। পরিবারের লোকজন বলছে, রাফির কোনো শত্রু ছিল বলে তাদের জানা নেই। আবার রাফি যাদের সঙ্গে মিশত তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কোনো মেয়ে বন্ধুর সঙ্গেও তাঁর কোনো বিরোধ ছিল না। 

পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত ফাহিম রাফি (২০) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মনিরুজ্জামান। তাঁদের বাসা সবুজবাগের ১৪ নম্বর দক্ষিণ বাসাবো এলাকায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রাফি ছিলেন মেজো।

স্বজনরা জানায়, শুক্রবার রাফি সারা দিন বাসায়ই ছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার সময় হাতিরঝিলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়ে রাফি হাতিরঝিলে গিয়েছিলেন কি না তা নিশ্চিত নয় তারা। কারণ রাফিকে যখন তারা মুগদা হাসপাতালে পেয়েছিল, তখন তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। পথচারীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারা বলেছিল, হাতিরঝিল থেকেই রাফিকে উদ্ধার করে তারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে খিলগাঁও থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, মুগদা এলাকায় বাস থেকে নামার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা পুলিশকে জানিয়েছে, থুতনি ও মাথায় আঘাত পান রাফি। মূলত মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল দুপুরে মুগদা কবরস্থানে রাফির লাশ দাফন করা হয়।

 

 

 

 



মন্তব্য