kalerkantho


রাজধানীতে রংমিস্ত্রিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আরো চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীতে রংমিস্ত্রিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকূল এলাকা থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে ওই এলাকার ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম মনিরুজ্জামান মনির (৩৫)। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি ছিলেন।

পুলিশ বলছে, মনিরের গলায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

এদিকে রাজধানীতে গত শুক্রবার রাতে ও গতকাল আলাদা ঘটনায় চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন আলী মিয়া (৭১), বাবলু মিয়া (৩০), উলেমা খাতুন (২০) ও হানিফ (৫০)।

বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী আবুল কালাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা মনিরকে হত্যা করে লাশ গুমের জন্য ওইখানে ফেলে গেছে। তদন্ত চলছে।’ তিনি আরো বলেন, মনিরের স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশ শনাক্ত করে। তিনি ফেনীর খয়রা এলাকায় কাজ করতেন।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল আলম জানান, মনির দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকার মনিরাপুরের ওয়ারেছ সরদারের ছেলে।

মনিরের ভাই আজমল হক মিন্টু বলেন, মনির হত্যার পেছনে রংমিস্ত্রিরা জড়িত থাকতে পারে। তাঁর ঢাকায় এসে কাজ করার কথা ছিল। এ

ছাড়া মনিরের কাছে ২০-২৫ হাজার টাকা ছিল। এ জন্য ছিনতাইকারীর কবলে পড়েও এ ঘটনা ঘটতে পারে।

চারজনের লাশ উদ্ধার : উত্তরা থানার এসআই মুশফিকুর রহমান জানান, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর রোডের ২/ই নম্বর বাসায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন আলী মিয়া। শুক্রবার রাতে কাজ করা নিয়ে অন্য নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে আহত হন আলী। তাঁকে স্থানীয় আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে আলী মিয়ার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

খিলগাঁও থানার এসআই এমদাদুল হক জানান, জমি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ভাইদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জের ধরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বাবলু মিয়া। খিলগাঁও উত্তর গোড়ান আইসক্রিম গলির একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

মুগদা থানার এসআই শামীম আকতার জানান, গতকাল ভোরে মুগদার জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দোতলা থেকে উলেমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধী এই নারী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকে শুক্রবার রাতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে লালবাগ শহীদনগর ৪ নম্বর গলির একটি বাসায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিষপান করেন হানিফ। পরে স্বজনরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় তাঁকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

লালবাগ থানার এসআই মোতালেব হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন হানিফ। এক সময় তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এই হতাশা থেকেই তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।



মন্তব্য