kalerkantho


বিয়ের প্রস্তাবে ‘না’ বলায় পুরো পরিবার একঘরে!

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় একটি পরিবারকে তিন মাস ধরে ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের চাঁনমারী গ্রামে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের মুরব্বিদের কাছে সমাধান না পেয়ে শেষমেশ থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন মেয়ের মা মোছা. লুত্ফুন্নেসা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২১ জুন ওই গ্রামের মো. নুর হোসেন কয়েকজনকে নিয়ে লুত্ফুন্নেসার বাড়ি যান। নুর হোসেন তাঁর এক আত্মীয়ের সঙ্গে লুত্ফুন্নেসার মেয়ে ফারজানার (১৮) বিয়ের প্রস্তাব দেন। লুত্ফুন্নেসা তাতে রাজি না হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার এবং সমাজচ্যুত করে রাখার হুমকি দেন নুর হোসেন। এরপর থেকে গ্রামে ওই পরিবারটিকে ‘একঘরে’ করে রাখা হয়েছে।

লুত্ফুন্নেসা বলেন, ‘আমার স্বামী দুবাই থাকেন। মেয়েকে নিয়ে একা থাকি। একঘরে করে রাখায় গত কোরবানির ঈদে আমি কোরবানি দিতে পারিনি। ইউপি সদস্য নুয়েল আহমেদ ও এলাকার মুরব্বি সোরহাব মিয়ার কাছে বিচার চেয়েছিলাম; পাইনি। তারা উল্টো সমাজে নেওয়ার জন্য আমার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছে। বিষয়টি আমার স্বামী দুবাই থেকে মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশে জানানোর পর তারা আমাকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে আমি মেয়েকে নিয়ে লৈয়ারকুল গ্রামে বাবার বাড়ি উঠেছি।’

সিন্দুরখান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুয়েল আহমদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। একটা পক্ষ আমার কাছে এসেছিল। আমি সমাধানের উদ্যোগও নিয়েছিলাম। কিন্তু অন্যপক্ষ সাড়া না দেওয়ায় সমাধানে আসা যায়নি। তবে আমি আবারও সমাধানের উদ্যোগ নেব।’

লুত্ফুন্নেসার অভিযোগের তদন্ত করেছেন শ্রীমঙ্গল থানার এসআই মধুসূদন। তিনি বলেন, ‘পরিবারটিকে একঘরে করে রাখার সত্যতা পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে সালিসে নিষ্পত্তি করবেন বলে জানিয়েছেন। নিষ্পত্তি না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য