kalerkantho


বিশেষ অভিযানের প্রথম তিন মাস

১৭ লাখ ইয়াবা, সাড়ে সাত কেজি হেরোইন উদ্ধার

জব্দকৃত বিভিন্ন ধরনের মাদকের মূল্য ১১৩ কোটি পৌনে ১১ লাখ টাকা

নিখিল ভদ্র   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের প্রথম তিন মাসে ১১৩ কোটি ১০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ পিস ইয়াবা, সাড়ে সাত কেজি হেরোইন ও সাড়ে ১৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল রয়েছে। এ সময় এক হাজার ৯৫৩টি মামলায় তিন হাজার ৩৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারা দেশে অভিযান চালানোর পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকের কার্যপত্রে গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। পরে কমিটির সদস্যরা এ নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাদকের ছোবল ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। যুবসমাজকে বিপথগামী করছে। যে কারণে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের মতো মাদকের বিরুদ্ধে সরকার অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানে দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর তাগিদ দেওয়া হয়।

কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব আব্দুল মালেক স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ অভিযানে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে ৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ১৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা, সাত কোটি ৬৫ হাজার ৩০ লাখ টাকার সাত কেজি ৬৫৩ গ্রাম হেরোইন, এক কোটি ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকার ১৮ হাজার ৪৪৪ বোতল ফেনসিডিল, ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৬০৫ টাকার এক হাজার ২৮৪ কেজি ৫৩৫ গ্রাম গাঁজা, ৬০ লাখ ১২ হাজার টাকার ১২ হাজার ২৪ বোতল বিদেশি মদ এবং ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩৮ টাকার দেশি মদ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রথম তিন মাসে দুই হাজার ছয়টি অভিযান পরিচালনা করে এক হাজার ৯৫৩টি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ওই সব মামলায় তিন হাজার ৩৬৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মোবাইল কোর্ট ৯৪৮টি অভিযান পরিচালনা করে ছয় হাজার ৩০১ জনকে সাজা দিয়েছেন এবং এক হাজার ৭৮ জনকে জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া ৪২ লাখ ১৭ হাজার ৬২৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে অভিযান চালানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ বন্ধে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশের ৩২টি সীমান্তবর্তী জেলায় গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চার হাজার ৯১৯টি অভিযান পরিচালনা করে এক হাজার ২৯৭ জন মাদক অপরাধীর বিরুদ্ধে এক হাজার ১৮৩টি মামলা করেছে। ওই অভিযানে ১৪ কোটি ৩৬ লাখ ৩২ হাজার ৪৬০ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগের বছর ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৬২৩টি অভিযান পরিচালনা করে এক হাজার ১৮৩ জন মাদক অপরাধীর বিরুদ্ধে এক হাজার ১০৫টি মামলা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে কোস্ট গার্ড বাহিনী কাজ করছে। সংস্থাটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার বন্ধে টেকনাফ, শাহপুরী ও সেন্ট মার্টিনসসংলগ্ন নদী ও সমুদ্র এলাকায় অত্যাধুনিক মিটাল শার্ক হাইস্পিড বোটের সাহায্যে টহল দেওয়া হচ্ছে।



মন্তব্য