kalerkantho


ডাকাতির মামলা নিষ্পত্তি হয়নি ১৫ বছরেও

আশরাফ-উল-আলম   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ডাকাতির মামলা নিষ্পত্তি হয়নি ১৫ বছরেও

রাজধানীর মহাখালী ওয়ারলেস গেট এলাকার বাসিন্দা ও ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মনির হোসেন একটি ডাকাতি মামলার আসামি। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় মনির জানান, ২০০৩ সালে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন ১৫ বছর ধরে। তিনি বলেন, ‘অপরাধ করেছি কি করিনি সেই প্রশ্ন পরে। পনের বছর ধরে আদালতে ঘুরছি। এর চেয়ে আর বড় শাস্তি কি হতে পারে?’ এ কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

মনির বলেন, ‘যখন মামলা হয়েছিল তখন বাদী এজাহারে শুধু মনির নামটি দিয়েছিলেন। আমাকে এলাকার সবাই ভাঙ্গারি মনির হিসেবে জানে। যে ভবনে বাদীর মাল লুট হয় সেই ভবনের নিচতলায় আমি ব্যবসা করি। বাদীও আমার পরিচিত। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে আমার নাম-পিতার নাম উল্লেখ করেই মামলা দিতেন। শুধু মনির নাম থাকায় পুলিশ আমাকে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। আমি ঘটনার শিকার।’ মনির আরো বলেন, ‘তার পরও বিচার শেষ হলে রায়ে যা হয় হবে। কিন্তু এভাবে ঘুরতে আর ভালো লাগে না।’ তিনি জানান, এই মামলায় আবার তারিখ পড়েছে আগামী ১ নভেম্বর। এ পর্যন্ত চারটি আদালত বদল হয়েছে।

মামলার নথি থেকে দেখা যায়, মামলার আরেক আসামি তানভীর আহমেদ ওরফে টিটু পলাতক। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তাকে ধরছে না পুলিশ। মনিরকে একাই হাজিরা দিতে হচ্ছে। ২০০৩ সালের ১৭ নভেম্বর গুলশান থানায় মামলাটি করেছিলেন ব্র্যাক-আড়ংয়ের লজিস্টিক কর্মকর্তা খন্দকার আশরাফ হোসেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মহাখালী ওয়ারলেস গেটের একটি বাড়ির চতুর্থ তলায় তাঁদের একটি চামড়ার কারখানা ছিল। ১৬ নভেম্বর ওই কারখানায় টিটু ও মনিরসহ সাত-আটজন ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে তাঁদের ৩৭ হাজার টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

এ মামলায় একই বছরের ১৮ নভেম্বর দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় (ডাকাতির অভিযোগ) চার্জশিট দেয় ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে মামলাটি স্থানান্তর হয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, এই মামলায় বাদীসহ চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। মোট সাক্ষী ১৫ জন। আদালত থেকে বিভিন্ন সময়ে সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পরও অন্য সাক্ষীরা হাজির হচ্ছে না।

ঢাকার আদালতে ফৌজদারি মামলা পরিচালনাকারী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, ‘সাক্ষী হাজির হচ্ছে না এই কারণ দেখিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না এটা ন্যায়বিচার পরিপন্থী। সাক্ষীর জন্য ১৫ বছর ধরে মামলা চলায় আসামিকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পাঁচ বছরের পুরনো মামলা নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা থাকলেও ১৫ বছর ধরে মামলা চলবে কেন?’

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘দুজন আসামি অভিযুক্ত। এই মামলা ডাকাতির মামলা হবে না। এটা সাধারণ চুরির মামলা। এটাকে ডাকাতি মামলায় পরিণত করে চার্জশিট দিয়ে আসামিদের প্রতি আরো অবিচার করা হয়েছে।’

 



মন্তব্য