kalerkantho


কর্মশালায় আলোচকরা

সিডওর সংরক্ষিত দুটি ধারা প্রত্যাহার দাবি

দুই অনুচ্ছেদে সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নারীর প্রতি সব বৈষম্য বিলোপে জাতিসংঘের সিডও সনদের দুটি অনুচ্ছেদ থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। এই দুই অনুচ্ছেদে সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে তাঁরা মত দিয়েছেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিন্ন পারিবারিক আইন ও বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান তাঁরা।

সিডও বাস্তবায়নে দেশের ৫৬টি মানবাধিকার সংগঠন নিয়ে গঠিত জাতীয় প্ল্যাটফর্ম ‘সিটিজেন ইনিশিয়েটিভস অন সিডও বাংলাদেশ’ (সিআইসি-বিডি) আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব দাবি জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সিডওসংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার আলোচনায় অংশ নেন ইউএন উইমেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর শোকো ইশকাওয়া, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, দিপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ফারুক আহমেদ, নারী অধিকারকর্মী রোকেয়া কবির, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রিনা রায় প্রমুখ।

আলোচকরা বলেন, পিতৃৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে যুগ যুগ ধরে নারীর প্রতি বৈষম্য এবং নির্যাতন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই  বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সিডও সনদ বাস্তবায়নে জাতিসংঘের পাশাপাশি রাষ্ট্র এবং তার নাগরিকদেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। এ কাজ শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই।

আয়শা খানম বলেন, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার সিডও সনদে স্বাক্ষর করলেও সনদের চারটি অনুচ্ছেদে সংরক্ষণ আরোপ করে। নারী আন্দোলনের চাপে দুটি সংরক্ষণ প্রত্যাহার করলেও এখনো দুটি বহাল রাখা হয়েছে। এই দুটি অনুচ্ছেদে নারীর সম্পত্তির অধিকার এবং সাংবিধানিক ও পারিবারিকভাবে সমান অধিকার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ তাদের সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করলে, দেশের চলমান অগ্রতি টেকসই হবে না। এ ছাড়া এসডিজির লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হবে।

স্টেপস টুওয়ার্ডসের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার বলেন, বাংলাদেশ এখনো সিডওর মৌলিক জায়গাগুলোতে আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।



মন্তব্য