kalerkantho


উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল সবজি বাজার

দাম কমেছে পেঁয়াজ-মরিচের

শওকত আলী   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দাম কমেছে পেঁয়াজ-মরিচের

রাজধানীর বাজারে খুচরা পর্যায়ে দাম কমেছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজে পাঁচ টাকা এবং কাঁচা মরিচের কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

রামপুরা, সেগুনবাগিচা, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শুক্রাবাদসহ আরো কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি, যা সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা পর্যন্ত। তবে বাড্ডার গুদারাঘাটের মতো দুই-একটি জায়গায় এখনো ১২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এদিকে কারওয়ান বাজারের মতো পাইকারি বাজারের ফরিয়াদের কাছ থেকে কিনলে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ অর্ধেক দামে কেনা সম্ভব। এখানে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৪০-৫০ টাকায়।

অনেকটা উচ্চমূল্যেই স্থিতিশীল রয়েছে সবজির বাজার। ভোক্তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতি কেজি সবজির দাম ৪০-৫০ টাকার আশপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছে। রামপুরা কাঁচাবাজারের এক ক্রেতা আল-আমিন বলেন, ‘শীত যাওয়ার পর থেকেই দুই-একটি আইটেমের সবজি ছাড়া বাকিগুলোর দাম ৪০-৫০ টাকা হয়ে আছে, তা আর কমতে দেখি না। তবে মাঝেমধ্যে কোনো কোনোটি বেড়ে যায়।’

খুচরা বাজারগুলোতে দেখা গেছে, কম দামের সবজি বলতে শুধু পেঁপে আর আলু। দুটি সবজিই কোনো কোনো বাজারে ২৫ টাকা কেজি, কোনো কোনো বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বেগুন ৪০-৫০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০-৪৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫-৪০ টাকা, পটল ৪০-৪৫ টাকা, কচুর মুখী ৩৫-৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০-৪৫ টাকা, বরবটি ৪০-৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া লাউশাক, লালশাক, পুঁইশাক ও কলমিশাকের প্রতি আটি ৮-১৫ টাকা পর্যন্ত দাম দেখা গেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এক অবস্থানে রয়েছে চালের দর।

ফার্মগেট তেজগাঁও কলেজের পাশের কাঁচাবাজারে বৃহস্পতিবার সকালে বাজার করছিলেন বুলবুল হোসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেছি ২৫ টাকায়। পাঁচ-ছয় দিন আগেও একই পরিমাণ মরিচ কিনতে হয়েছে ৩০ টাকা দিয়ে।’

মরিচ-পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। কোরবানির ঈদের মধ্যে চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কিছুটা কমে ৩০-৩২ টাকায় নেমে এসেছিল। এখন আবার ৩৪ টাকা হালি হয়ে গেছে। তবে বাজারভেদে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকায়। ফার্মের সাদা ডিম এক ডজন পাওয়া যাচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের খুচরা বিক্রেতা শরিফুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিমের দাম এমনিতেই বেশি। কোরবানির ঈদে চাহিদা কমায় দাম একটু কমেছিল। এখন আবার বেড়েছে। আমরা ৩৪ টাকা হালিতে ডিম বিক্রি করছি।’

সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত এ বাজারটির প্রবেশপথে একটি বাজার তালিকা টানানো রয়েছে। যাতে ফার্মের প্রতি হালি ডিমের খুচরা সর্বোচ্চ যৌক্তিক মূল্য লেখা রয়েছে ২৪-২৭ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বৃহস্পতিবার ঢাকা মহনগরীর বাজার বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমে দুই টাকা করে দাম বেড়েছে।

তবে স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩৫ টাকা কেজি দরে। কারওয়ান বাজারের মতো বড় বাজারগুলোতে ১২০ টাকা কেজি দরে প্রতি কেজি মাংস মিললেও অন্যান্য খুচরা বাজারে কিনতে হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

 



মন্তব্য