kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট

সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে, এটা দেখার অপেক্ষায় আছি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বর্তমান সরকার যে আগ্রহ দেখাচ্ছে তাকে আমলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।

বার্নিকাট বলেন, ‘আমরা চাই এই নির্বাচনপ্রক্রিয়া এমন হোক যেখানে বাংলাদেশিদের ইচ্ছা প্রকাশের সুযোগ থাকে। এই সরকারের সঙ্গে মিলে সব রাজনৈতিক দলগুলোকেই এই প্রক্রিয়া ঠিক করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই সরকারও বলছে যে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে চায়। আর সরকার তা করছে, এমনটি আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি।’ বার্নিকাট বলেন, পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এ মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আসন্ন সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অনেক ইস্যু উঠবে। তিনি নিশ্চিত যে ওয়াশিংটন সেগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোর দেবে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরো জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় আনতে পারে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাধারণ পরিষদের সিরিয়ার আদলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ তদন্ত কাঠামো সৃষ্টিতেও যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখতে পারে।

জানা গেছে, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া এখনো মিয়ানমারের জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করায় ওই পরিষদে জবাবদিহি কাঠামো সৃষ্টি কঠিন। তাই সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চায়।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকো জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গা গণহত্যাকে ‘গণহত্যা’ বলবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিধান্বিত। কারণ গণহত্যাবিরোধী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করলে তা ঠেকাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য।

যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে অভিহিত করে যাচ্ছে। দেশটি ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী বেশ কয়েকজন জেনারেল ও দুটি সামরিক ইউনিটকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরো জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

 



মন্তব্য