kalerkantho


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশা

রোহিঙ্গাদের প্রথম দল ফেরত যেতে পারে শিগগিরই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শিগগিরই শুরুর ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল বুধবার ঢাকায় ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে’ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চিন্তা করছি, শিগগিরই প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসন হয়তো শুরু করব।’ কোনো তারিখ ঠিক হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারিখ-টারিখ এখন বলতে পারব না। তিন হাজারেরও বেশি ক্লিয়ারেন্স (ছাড়পত্র) দিয়েছে (মিয়ানমার)। দেখা যাক।’ এ বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই। দেখা যাক।’

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল ঢাকায় মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা সংকট : চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের সীমাবদ্ধতা এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজকে সাধুবাদ জানান। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট  লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন।

সেমিনারে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বন্ধুপ্রতিম ১২টি দেশের ২৩ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্সের ৭৬ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা এতে অংশ নেন।

সেমিনারে আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০১৮-তে অংশগ্রহণকারীদের একটি দল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাবেক কর্মকর্তা আসিফ মুনীর রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। ওই গবেষণাপত্রগুলোতে রোহিঙ্গা সংকটের নানা দিক, চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানের ব্যাপারে উপস্থাপিত বিষয়গুলো উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলছে, রোহিঙ্গাদের ফেরার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনো মিয়ানমারে সৃষ্টি হয়নি। তবে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাচ্ছে।

গতকাল মিয়ানমার সরকারের রাখাইন রাজ্যবিষয়ক এক তথ্য বিবরণীতে দাবি করা হয়েছে, ইতিপূর্বে মিয়ানমার ছেড়ে যাওয়া ছয় ব্যক্তি গত মঙ্গলবার রাখাইনের মংডু জেলার তং পিয়ো লেতে অভ্যর্থনা কেন্দ্রে ফিরে গেছে। তথ্য বিবরণীতে তাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় উল্লেখ করা না হলেও তারা রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারি সূত্রগুলো বলছে, গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে যায়নি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এর আগেও দাবি করেছিল যে প্রত্যাবাসন শুরু হয়ে গেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের ৪২ ও ৪৩ নম্বর খুঁটির মধ্যবর্তী এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা গত সোমবার যৌথ টহল কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন বলে মিয়ানমারের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

 

 

 



মন্তব্য