kalerkantho


কারাগারে আদালত

সিদ্ধান্ত সংবিধানের বিরোধী : বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম চালাতে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত বসানোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘সংবিধানবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিগগিরই রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া হবে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, সরকার একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই প্রজ্ঞাপনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলা যেটা বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে বিচারালয় তৈরি করে সেখানে বিচার করা হচ্ছিল, এখন আবার সেখান থেকে এটাকে ট্রান্সফার করে নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে। সেটা কাল থেকে শুরু হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকারে এই সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) মতে এই ধরনের মামলা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এখানে ক্যামেরা ট্রায়াল করার সুযোগ নেই। আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অসুস্থ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেবার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি ক্যামেরা ট্রায়াল। আমরা রাজনৈতিকভাবে এ বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম ঘোষণা করব।’ পরবর্তী কার্যক্রম কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘একটি দেশ চলে সংবিধানের অধীনে। যাঁরা মৌলিক অধিকারের কথা বলেন বা যে মূল সংবিধান ১৯৭২ সালের কথা বলেন সেই সংবিধান থেকে এখন পর্যন্ত অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয় নাই। ৩৫(৩)-এ স্পষ্ট করে বলা আছে যেকোনো ফোজদারি মামলা এটা প্রকাশ্যে হতে হবে। আজকে জেলখানার অভ্যন্তরে বিচার করার অর্থ হলো ক্যামেরা ট্রায়াল। এটা আমাদের সংবিধানসম্মত নয়। সিআরপিসির ৩৫২ ধারায়ও একই কথা লেখা আছে যে এই বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। এখন যেটা সরকার করছে এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান পরিপন্থী।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ।

 

 



মন্তব্য