kalerkantho


সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসী গোলাগুলি বান্দরবানে

সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা চাঁদাবাজি করছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বান্দরবানের লামা উপজেলার নকশাঝিরি এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়েছে। উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই গোলাগুলি চলার সময়  জনমনে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা কোন গ্রুপের সদস্য তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই গ্রুপে মারমা, চাকমা ও ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোক রয়েছে বলে দাবি করছে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রথমে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এক দল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ব্যাপক চাঁদাবাজি চালায়। দুপুর ১২টার দিকে সেনা সদস্যরা যাওয়ার পর গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। আধাঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির এই ঘটনায় উভয় পক্ষে শতাধিক রাউন্ড গোলাগুলি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আলীকদম জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান বলেন, লামা উপজেলার ছোট বমু ও মেরাখোলা এলাকায় এক দল সন্ত্রাসী দোকানপাট ভাঙচুর, লুট এবং ব্যবসায়ীদের মারধর করছে খবর পেয়ে আলীকদম জোনের অধীন লামা সাবজোনের সেনা সদস্যরা ছুটে যান। সন্ত্রাসীরা সেনা জোয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকলে জোয়ানরাও পাল্টা জবাব দেন। লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর নিরাপত্তাবিধানের সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লামা থানার ওসি আপ্পেলা রাজু নাহা জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, সেনা-পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পিছু হটে চিউনিপাড়া এলাকার গভীর জঙ্গলের দিকে চলে যায়। সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিট ও পুলিশ সদস্যরা সম্ভাব্য এলাকাগুলো ঘিরে রেখেছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে জান্নাত রুমী জানান, জনগণের ওপর হামলার আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার এবং বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লামা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন বলেন, ধার্য করা চাঁদা না পেয়ে প্রতিশোধ নিতে এবং আতঙ্ক ছড়াতে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা গেলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে হামলার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০ সদস্যের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট বম, মেরাখোলা, আবদুর শুক্কুরপাড়া, পোয়াংপাড়া ও নকশাঝিরি এলাকায় দোকানপাটে হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে ১১টি দোকান থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং একটি ফার্মেসিসহ পাঁচটি দোকানে ভাঙচুর চালায়। টাকা দিতে দেরি করলে সন্ত্রাসীরা দোকান থেকে বের করে ব্যবসায়ীদের মারধর করে।

 



মন্তব্য