kalerkantho


শহিদুল আলমের জামিন শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের জামিন আবেদনের ওপর হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চে এ শুনানি হবে। গতকাল সোমবার এক আদেশে আদালত শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলম বর্তমানে কারাবন্দি।

সূত্র জানায়, গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে শহিদুল আলমের জামিন আবেদন করা হলে গতকাল শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষে সময়ের আবেদন জানিয়ে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে শুনানি করবেন। তাই সময় দরকার। আদালত সময় মঞ্জুর করে বলেন, যেহেতু ছয় দিন ধরে আবেদনটি রয়েছে তাই এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকলে তা যেন লিখিতভাবে দাখিল করা হয়। আদালতে গতকাল আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দু কুমার রায়।

দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গত ৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ১২ আগস্ট তাঁকে কারাগারে পাঠানো হলে এক দিন পর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাঁর জামিন আবেদন করা হয়। এ আবেদনে ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য রাখা হয়। এদিকে শুনানির তারিখ এগিয়ে আনতে গত ১৯ আগস্ট আবেদন করা হলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তা গ্রহণ করেননি। এরপর শহিদুল আলমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আবেদন করা হলে সেটিও গ্রহণ করেননি আদালত। এ অবস্থায় ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়।

শহিদুল আলমের রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ আগস্ট রিট আবেদন করেন স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। ওই দিনই হাইকোর্ট এক আদেশে শহিদুল আলমকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের পর বিএসএমএমইউ হাসপাতাল থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, শহিদুল আলমের শারীরিক অবস্থা ভালো। পরে হাইকোর্ট গত ৯ আগস্ট পৃথক এক আদেশে শহিদুল আলমের ওপর মানসিক নির্যাতন হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দিতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ড. শহিদুল আলম। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যা, জাতীয় সংসদের নির্বাচন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।



মন্তব্য