kalerkantho


সংসদ নির্বাচনের আইন বাংলায় রূপান্তর হলো না

কাজী হাফিজ   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা বাংলায় রূপান্তরের ব্যবস্থা এবারও হলো না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ অধ্যাদেশ বাংলায় প্রণয়ন করার আগ্রহের কথা জানিয়েছিল কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজও শেষ করা হয়। এসব আইন ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করে একটি খসড়া প্রস্তাবও তৈরি করা হয়। কিন্তু গত ৩০ আগস্ট ইসির সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়নি। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব আইন বাংলায় পাঠ, প্রচার বা প্রয়োগের আইনগত সুযোগ সৃষ্টি হলো না। 

ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ বিষয়ে গত রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আরপিও বাংলায় রূপান্তরের জন্য যে সময় প্রয়োজন, তা এখন নেই। এ কারণে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে এখন কোনো প্রস্তাব পাঠাচ্ছে না। সংসদ নির্বাচনের পরে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।’

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত আইন ও বিধিমালাগুলো বাংলায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য আরপিও, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ বাংলায় অনুবাদও করা হয়। কিন্তু সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ আকারে জারি করার উদ্যোগ নিতে রাজি হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে তখন ইসিকে বলা হয়েছিল, এই কাজ রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া দরকার। কিন্তু অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার এ বিষয়ে আগ্রহী দেখায়নি। কমিশন সচিবালয়ের ২০০১ সালে অনুবাদ করা ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা’ পুস্তিকা আকারে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। জাতীয় সংসদে এটি পাস না হওয়ায় এটি ব্যবহারের আইনগত ভিত্তি নেই।

জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনার খসড়ায় আরপিও সংস্কার প্রস্তাবে বলা ছিল,   “নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য বিদ্যমান আইনি কাঠামোর কিছু অংশ ইংরেজি ও কিছু অংশ বাংলায় রয়েছে। পুরো আইনটি বাংলায় প্রণীত হলে ব্যবহারকারীগণের কাছে তা সহজেই বোধগম্য হবে। একই সঙ্গে সর্বজনীন বাংলা ভাষা ব্যবহারে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপিত হবে। বিদেশি শব্দ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ঘাড়ে চেপে বসে আছে; যেমন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ইত্যাদি। এগুলোকে অনাদিকাল পর্যন্ত বহন করার যুক্তি নেই বলে মনে করে ইসি। এগুলোকে সরিয়ে জুতসই শব্দ সংযোজন অপিরহার্য বলে বিবেচনা করা দরকার। উদাহরণস্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শব্দগুলো পল্লী পরিষদ প্রধান/ অধিকর্তা/আধিকারিক শব্দগুলো দিয়ে প্রতিস্থাপিত হতে পারে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর শব্দ দুটি ‘মহল্লাপ্রধান’-এ প্রতিস্থাপিত হতে পারে। মেয়র শব্দটি পাল্টে নগর অধিকারিক করা যেতে পারে। ‘রিটার্নিং অফিসার’ প্রতিস্থাপিত হতে পারে ‘নির্বাচন পরিচালক’ নামে। একইভাবে প্রিসাইডিং অফিসারকে ‘কেন্দ্র পরিচালক’, পোলিং অফিসারকে ‘গোপন কক্ষ সংরক্ষক’, বুথকে ‘গোপন কক্ষ’, পোলিং এজেন্টকে ‘নির্বাচন সহায়ক’, ব্যালট বাক্সকে ‘ভোট বাক্স’, ব্যালট পেপারকে  ‘ভোটপত্র’ এসব নামে প্রতিস্থাপিত করা যেতে পারে।” তবে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনায় এসব উদাহরণ বাদ দেওয়া হয়।

 

 



মন্তব্য