kalerkantho


জামতলায় শাহাদাত হত্যা

স্ত্রী ও ছেলে রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ শহরের ফতুল্লা জামতলা এলাকায় সাবেক অডিট কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন (৬৫) হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আফতাবুজ্জামানের আদালত এই আদেশ দেন।

নিহত শাহাদাতের স্ত্রী বিলকিস বেগম (৫৫) ও তাঁর একমাত্র ছেলে বিল্লাল হোসেন শাকিলকে (২৪) গতকাল আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছিল। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সঞ্চিত টাকা আত্মসাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে শাহাদাতকে। মামলার অপর আসামি নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার নিপা পলাতক রয়েছেন।

শাহাদাত হোসেন মুন্সীগঞ্জ সদরের আশুরান গ্রামের মৃত সামসুল হক মোল্লার ছেলে। তিনি এজিবির সিনিয়র অডিট অফিসার ছিলেন। পাঁচ বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নেন। মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, চাকরিজীবনে এককালীন বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। সেই টাকায় মাসদাইর এলাকায় একটি বাড়িও করেন। বাড়িটি পরে আবার বিক্রি করে দেন। বাড়ি বিক্রির পর জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার সোহাগ মিয়ার পাঁচতলা ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এখানে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন। বিলকিস বেগম (নিহতের স্ত্রী) প্রায় সময় স্বামীকে মারধর করতেন। তাঁর সঙ্গে ছেলে-মেয়েও যোগ দিতেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকবার বিচার সালিসও হয়। এমনকি নির্যাতনের শিকার শাহাদাত হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় জিডিও করেছিলেন।

গত রবিবার নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে করা মামলায় অভিযোগ করেন, ‘ভাইয়ের সঞ্চিত টাকার জন্যই ভাবি এবং ভাতিজা-ভাতিজিরা তাঁকে অত্যাচার, মারধর করতেন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার ভাইকে মারধর করে হত্যা করা হয়।’

নিহতের মামাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয় ব্যুরোতে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ নামে ২০ লাখ টাকা ছিল শাহাদাতের। সেই টাকা নেওয়ার জন্য বিলকিস প্রায় সময়ই স্বামীকে মারধর করতেন।

 



মন্তব্য