kalerkantho


জর্দানফেরত সেই কুমারী মায়ের পাশে পুলিশ সুপার

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জর্দানফেরত সেই কুমারী মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম। গতকাল রবিবার বিকেলে তিনি ওই কুমারী মায়ের খোঁজখবর নিতে তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। এ সময় তরুণীর মুখ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন এবং তাঁকে ৫০ হাজার টাকার অনুদান দেন পুলিশ সুপার। আশ্বাস দেওয়া হয় সব সময় পরিবারটির পাশে থাকার।

দরিদ্র পরিবারের ওই তরুণী ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর জর্দানে যান। সেখানে যৌন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৩ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। এ কারণে সমাজপতিরা তাঁকে সমাজচ্যুত করেন।

জর্দানে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট ওই তরুণী সেখানে বসবাসরত সিংগাইর উপজেলার চর-চান্দহর গ্রামের সোনিয়া আক্তার ওরফে রাবিয়া, তাঁর বাবা লেহাজুদ্দিন, মা জরিনা বেগম, স্বজন আয়েশা আক্তার ও ভারতীয় নাগরিক গরজিদকে আসামি করে সিংগাইর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ঘটনা নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা কালের কণ্ঠসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বিষয়টি পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের দৃষ্টিগোচর হলে গতকাল বিকেলে তিনি ওই কুমারী মা ও তাঁর নবজাতক সন্তানের খোঁজখবর নিতে তাঁর বাড়িতে যান। পুলিশ সুপার প্রতিবেশীদের ওই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করারও পরামর্শ দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন ও উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াহিদুজ্জামান।

পুলিশ সুপারকে পাশে পেয়ে নির্যাতিত ওই নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য সবার মতো আমরাও মর্মাহত। ওই নারী কোনো দোষ করেননি। তিনি বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ আত্মসম্মান নিয়ে পরিবারটি যেন সমাজে বসবাস করতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, মামলার আসামি লেহাজুদ্দিন বেপারী ও তাঁর স্ত্রী জরিনা বেগমকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতনের শিকার তরুণীর পরিবারটি যেন আর সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।

 



মন্তব্য