kalerkantho


গফরগাঁওয়ে ১৫ দিনে পিটুনিতে দুজন নিহত

গ্রেপ্তারে অনীহা তদন্তে ঢিলেমি

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে গণপিটুনিতে দুজন নিহতের ঘটনার তদন্ত চলছে ঢিমেতালে। আলাদা দুই ঘটনায় কমপক্ষে ২০-২৫ ব্যক্তির নামে মামলা হলেও পুলিশ মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। গণপিটুনিতে নিহত দুজন হলেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা সুজন (৩৭) ও স্কুলশিক্ষার্থী রিয়াদ (১৫)। সুজন উপজেলার আঠারোদানা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে ও যশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। স্কুলশিক্ষার্থী রিয়াদ উথুরী গ্রামের সৌদিপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে ও ঘাগড়া-উথুরী-ছিপান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ আগস্ট রাতে উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। ঘাগড়া গ্রামের টাউয়ারের মোড় এলাকায় গত ২৯ আগস্ট রাতে ঘটে দ্বিতীয় ঘটনাটি।

সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী পারভীন আকতার হত্যাকারীদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রথমে পুলিশ অভিযোগটি নেয়নি। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের নির্দেশে অভিযোগটি নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে আজও কোনো আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সুজনের ভাই ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিল। মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগ করেও এ সরকারের আমলে আমার ভাইকে হারিয়েছি। আমরা সুষ্ঠু বিচার ও হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।’ যশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা গোলন্দাজ বলেন, ‘সুজন আমার ওয়ার্ড কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। তার মতো পরিশ্রমী, ত্যাগী ও অন্তপ্রাণ কর্মী পাওয়া সহজ নয়।’

সুজন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আহসান হাবিব বলেন, ‘আমি চার-পাঁচ দিন ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চায় না। আসামি ধরার চেষ্টা চলছে।’

এদিকে রিয়াদের মৃত্যুর ঘটনায় তার ফুফা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো আটজনকে আসামি করে গত ৩০ আগস্ট গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করলেও পুলিশ নাজিম উদ্দিন নামের এক আসামি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রিয়াদ অপরাধ করে থাকলে তাকে থানায় না দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’

রিয়াদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ জামালী বলেন, ‘এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

 



মন্তব্য