kalerkantho


কেরানীগঞ্জে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে খুন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মো. ইমু (১৫) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ভাংনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বালুরমাঠ এলাকায়। নিহত ইমুর বাড়ি একই থানাধীন বাঁকাচড়াইল এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত এনামুল হক।

নিহতের নানি নুরজাহান বেগম বলেন, ‘ইমুর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই তার মা মমতাজ ও বড় ভাই আজমানিনকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে বসবাস করে। ইমু ইলেকট্রিক কাজ করত। তার মা মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে। গতকাল রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টার সময় ইমু বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আধাঘণ্টা পর ইমুর বন্ধু আকাশ আমাদের বাড়িতে এসে খবর দেয় কে বা কারা ইমুকে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ভাংনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে ফেলে রেখেছে। এ সংবাদ পেয়ে ইমুর বড় ভাই  আজমানিনসহ এলাকার আরো কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমুকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে তারা ইমুকে চিকিৎসা করার জন্য স্থানীয় সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে ইমুকে মোবাইল ফোনে তার এলাকার এক বড় ভাই তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। তখন ইমু তার বন্ধু আকাশকে নিয়ে ওই বড় ভাইয়ের বাড়ি রওনা দেয়। তারা ভাংনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের বালুর মাঠ এলাকায় পৌঁছলে ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা যুবক এসে তাদের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে ইমুকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। এ সময় ইমুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় আকাশ ইমুর বাড়িতে খবর দিয়ে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোল্লা সোহেব আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে ইমুর লাশ দেখি। রাজধানীর শাহবাড় থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমুর বন্ধু আকাশকে থানায় নিয়ে এসেছি। ঘটনার মূল রহস্য ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আমাদের কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

 



মন্তব্য