kalerkantho


রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার শুরু

রোহিঙ্গা সমাধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেই আছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সম্ভব। তবে এই আইনের মাধ্যমে সমাধান দ্রুত আবার বিলম্বও হতে পারে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত রোহিঙ্গা বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ‘রোহিঙ্গা : পলিটিকস, এথনিক ক্লিনজিং অ্যান্ড আনসার্টেইনটি’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনে ‘দ্য রোহিঙ্গা, দ্য সার্চ ফর সলিউশনস, অ্যান্ড দ্য পোটেনশিয়াল অব হিউম্যান রাইটস ল’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের শিক্ষক কেলি লপার। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কম্পারেটিভ অ্যান্ড পাবলিক ল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়া রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম। সম্মেলনের কৌশলগত অংশীদার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে ২১টি সেশনে ৭২টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দিন ১২টি সেশনে চীন, ভারত, স্কটল্যান্ড, নেপাল, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের ৩৫টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। আজ শেষ দিনে আরো ৩৭টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।

মূল প্রবন্ধে কেলি লপার বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব। তবে এটি বিলম্ব হতে পারে, আবার দ্রুতও হতে পারে। এটি হঠাৎ করে পাওয়া কোনো প্রক্রিয়া নয়। বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকাটাই মানবাধিকার।

বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে আমাদের জন্য একটি সংকট তৈরি করেছে। সংকট সমাধানে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা সই হয়েছে; কিন্তু তার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এর আগেও রোহিঙ্গাদের সমস্যা সামনে এসেছে; কিন্তু মিয়ানমার কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করেনি। যার ফলে আজকে আবার রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে।

 



মন্তব্য