kalerkantho


সিলেটে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা

বালাগঞ্জে দেবরের হাতে খুন

সিলেট অফিস   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় ছুরিকাঘাতে এস এম আব্দুল আহাদ নামে কুয়েতপ্রবাসী এক আওয়ামী লীগ নেতাকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আহাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুয়েত শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার করিমপুর মেদিনী মহলের নুর মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরের জিন্দাবাজারের তাঁতীপাড়া গলির মুখে একদল যুবক তাঁর ওপর হামলা চালায়। মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, নিহত আহাদের পিঠের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি, পায়ে ও ঊরুতে একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার সময় তাঁতীপাড়া সড়কে হাঁটছিলেন আব্দুল আহাদ। এমন সময় কয়েকজন যুবক তাঁকে ছুরিকাঘাত করে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

তাঁর পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শোকসভায় যোগ দিতে সিলেটে এসেছিলেন আহাদ। পরদিন রাতে তাঁর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, মরদেহের দাফন শেষে রবিবার আব্দুল আহাদের পরিবারের লোকজন সিলেটে এসে মামলা দায়ের করবে। তিনি বলেন, ‘কী কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। পূর্ববিরোধ রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বালাগঞ্জে গৃহবধূ খুন : সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় দেবরের ছুরিকাঘাতে শামীমা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে শিশুসহ আরো দুজন। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নতুন সুনামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দেড় বছর বয়সী এক ছেলের জননী শামীমা ওই গ্রামের আমির আলীর স্ত্রী এবং উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের তুরণ মিয়ার মেয়ে।

নিহতের বড় ভাই নাজমুল হোসেন জানান, পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচাতো দেবর মিন্টু ও রুহুল আমিন ক্ষুব্ধ হয়ে শামীমার বুকে ও হাঁটুতে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তাদের বাধা দিতে শামীমার ছোট বোন নাইমা (১০) ও ভগ্নিপতি বারু মিয়া এগিয়ে গেলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। তাত্ক্ষণিক বাড়ির অন্যান্য লোকজন আহতদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎক শামীমাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আহত অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধী।

বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ শামীমা খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় মিন্টুর ভাই রিপনকে আটক করা হয়েছে।

 

 



মন্তব্য