kalerkantho


খালেদার মুক্তিসহ ৬ দফা দাবি বিএনপির

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার মুক্তিসহ ৬ দফা দাবি বিএনপির

ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দলের চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা এসব দাবি তোলেন।

বিএনপির ছয় দফা দাবি হলো—নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাঁর নামে সব মামলা প্রত্যাহার, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনের আগে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি। দলটি বলছে, এই দাবিগুলো মানা না হলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগণ নির্বাচন হতে দেবে না।

জনসভায় মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য দলমত-নির্বিশেষে আবারও আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যুক্তফ্রন্ট আর গণফোরামের জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে দলটি।

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় দেড় মাস পর রাজধানীতে জনসভা করল দলটি। এতে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় ২টার দিকে।

নির্বাচনের আগের এই সময়ে অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারাগারে থাকা দলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ বুকের রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনেছে। প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আবারও বুকের রক্ত দিতে হবে, তবুও তাঁকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে আজ বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপশাসনকে পরাজিত করতে হবে। জাতিকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকামী সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ফখরুল।

দেশে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে—এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দিতে চাইছে। রায়ের আগে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন এ মামলায় তারেক রহমানের সাজা হবে। তাহলে কি তাঁরা আগেই রায় লিখে রেখেছেন?

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করেছিল। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক শূন্যতা দূর করতে বিএনপি গঠন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ তৈরি করে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়েছিল, আর জিয়াউর রহমান দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন।

জনসভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বরকতউল্লা বুলু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ফজলুল রহমান, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য দেন।

 



মন্তব্য