kalerkantho


ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ ও বিচার বিভাগের সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ, প্রসিকিউশন ও আদালতের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে। ফৌজদারি আইন, পুলিশ প্রবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির আদেশ ও বিধিমালা পুলিশ প্রশাসনকে কঠোরভাবে পালন করতে হবে। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এ বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা।

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো ও সমাধানের উপায় নিয়ে গতকাল পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার সিএমএম আদালতের সম্মেলন কক্ষে। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের প্রতিনিধি, চিকিৎসক, আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে। সিএমএম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কেশব রায় চৌধুরী, মো. আমিনুল হক, কায়সারুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রায়হান উল ইসলাম, সারাফুজ্জামান আনসারী, মাজহারুল ইসলাম, মাজহারুল হক, আমীর উল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী শাহানারা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার দিপু প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ বলেন, ফৌজদারি মামলার বেশির ভাগ রুজু হয় থানায়। আসামি ও সাক্ষী হাজিরসহ মামলা তদন্তে বিলম্ব, নানা রকম পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সময়মতো না হওয়ায় ঘটনার বিচার বিলম্বিত হয়। এটা কাম্য নয়। মামলাপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব সেবাদানের। এই সেবা যত দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া যাবে ততই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

সিএমএম মো. সাইফুজ্জামান হিরো বলেন, ফৌজদারি আদেশ ও বিধিমালা ২০০৯-এর ৬৮ ধারা অনুযায়ী প্রতি মাসে আসামি ও সাক্ষীদের সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠাতে হবে। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ তা পাঠায় না। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের নির্দেশ পালন করা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বাধ্য, কিন্তু তা করা হয় না।

পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, আদালত থেকে সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যথাসময়ে পাঠানো হয়। থানা কর্তৃপক্ষ তা যেন কার্যকর করে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মহিলা কারাগার নেই। তাদের রাখা হয় কাশিমপুর কারাগারে। তীব্র যানজট ঠেলে তাদের আদালতে হাজির করতে বিলম্ব হয়।

সম্মেলনে বিভিন্ন থানার ওসিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য সিএমএম মো. সাইফুজ্জামান হিরো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।



মন্তব্য